যশোরে তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন জটিলতায় গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে এবং তারা সবাই শীতজনিত রোগে ভুগছিলেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জোবায়ের আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক দিনে ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে মোট ২৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শতাধিক রোগী সরাসরি শীতকালীন অসুস্থতায় আক্রান্ত। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৫৪ জন শিশু। বর্তমানে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি।
মৃতদের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড ঠান্ডায় হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অনেককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মুন্সি মহিউদ্দিন নামে এক বৃদ্ধের ছেলে জানান, ভোররাতে বাবার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একইভাবে মনিরা খাতুন (৬৪) নামের এক নারী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। সূর্যের দেখা না পাওয়া এবং উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসক ডা. জোবায়ের আহমেদ বলেন, শৈত্যপ্রবাহের সময় বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এ সময় ফুসফুসে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই বাইরে বের হলে গরম কাপড় ব্যবহার করা এবং ঠান্ডা এড়িয়ে চলা জরুরি। সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে তীব্র শীতে যশোরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

