AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

জয়পুরহাটে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট: হাসপাতাল-ফার্মেসি সর্বত্র হাহাকার


Ekushey Sangbad
আব্দুল্লাহ সউদ, কালাই, জয়পুরহাট
১১:০৯ এএম, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬

জয়পুরহাটে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট: হাসপাতাল-ফার্মেসি সর্বত্র হাহাকার

গত এক মাস ধরে জয়পুরহাট জেলার সরকারি হাসপাতালসহ বেসরকারি ফার্মেসীগুলোতে ভয়াবহভাবে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে। জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সরকারি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীরা প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না পেয়ে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

সময়মতো ভ্যাকসিন না পেলে জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে—এমন আশঙ্কা নিয়েই হাসপাতাল থেকে ফার্মেসি পর্যন্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন আক্রান্তরা।

রোগীদের অভিযোগ,হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই, আগে বিভিন্ন পৌরসভায় জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও সেটিও এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ফার্মেসীগুলোতেও নিয়মিতভাবে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও দু-একটি ভ্যাকসিন মিললেও সেগুলোর দাম এমআরপির চেয়ে অনেক বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরবরাহ না থাকলে তাদের পক্ষে কিছু করার নেই। যতদিন ভ্যাকসিন ছিল, ততদিন তা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা বলছেন, ফ্যাক্টরিতে কাঁচামালের সংকটের কারণে আপাতত ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জয়পুরহাটে কুকুর ও বিড়ালের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় মানুষ ও গবাদিপশুর ওপর হামলার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিদিন জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে পড়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৫ দিন ধরে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে রোগীদের আক্রমণের তারিখ উল্লেখ করে বিভিন্ন কোম্পানির ভ্যাকসিনের নাম লিখে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন এবং বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু অধিকাংশ রোগী ফার্মেসীতে ভ্যাকসিন না পেয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,বর্তমানে সরকারিভাবে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। সংকট নিরসনের জন্য একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হলেও এখনো ভ্যাকসিন পৌঁছায়নি। গত অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে ১৫ ডিসেম্বরের পর রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ ডিসেম্বর মাসের বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিন এখনো হাসপাতালে পৌঁছায়নি। ফলে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ জন রোগীকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে নেওয়ার পরামর্শ দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল জানান, গত তিন মাস ধরেই জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাচ্ছে। একসময় রোগীর চাপ সামাল দিতে একটি ভ্যাকসিন চারজনকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এখন একেবারেই সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

কালাই পৌরশহরের আঁওড়া মহল্লার বাসিন্দা আলাল উদ্দিন (২৬) জানান, গত শনিবার কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর রোববার সকালে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভ্যাকসিন পাননি। চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন দিয়ে ফার্মেসী থেকে কিনে নিতে বলেন। পুরো জয়পুরহাট শহরে খুঁজেও কোথাও ভ্যাকসিন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বগুড়া গিয়ে এমআরপির চেয়ে ১৮০ টাকা বেশি দিয়ে ভ্যাকসিন কিনে নিতে হয়েছে।

একইভাবে কালাই পৌর এলাকার সিনামাহল মহল্লার বাসিন্দা সোহেল খন্দকার বলেন, দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নিতে হাসপাতালে গেলে সেখানে ভ্যাকসিন না থাকায় ৫০০ টাকার ভ্যাকসিন ৬৫০ টাকায় কিনে চারজনের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হয়েছে। সামনে তৃতীয় ডোজ কীভাবে দেবেন,তা ভেবেই তিনি উদ্বিগ্ন।তার প্রশ্ন, তাহলে কি মানুষ ভ্যাকসিনের অভাবে মৃত্যুর মুখে যাবে!

কালাই উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম জানান, তাঁর ছোট শ্যালকের ১২ বছর বয়সী মেয়ে তাশফিয়াকে বাড়ির উঠানে খেলার সময় কুকুর আঁচড় দেয়। পরদিন সকালে সদর হাসপাতালে এসে জানতে পারেন, ভ্যাকসিন নেই। পরে কয়েকটি দোকান ঘুরে একটি ফার্মেসী থেকে ৫০০ টাকায় ভ্যাকসিন কিনে নিতে হয়েছে।

ফার্মেসী মালিকরাও সংকটের কথা স্বীকার করেছেন।জয়পুরহাট শহরের সওদাগর ফার্মেসীর মালিক বাবু সওদাগর বলেন, বর্তমানে কোনো কোম্পানিরই নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। যাদের অল্প কিছু ভ্যাকসিন আছে, তারা হয়তো বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

পপুলার ফার্মাসিটিউক্যালসের জয়পুরহাট প্রতিনিধি (সেলস প্রমোশন অফিসার) জাহিদ হোসেন জানান,ফার্মেসীগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অর্ডার এলেও ডিপোতে সাপ্লাই না থাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। কাঁচামালের সংকটের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন বলেন,বর্তমানে জেলায় সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো মজুত নেই। তবে প্রতিটি উপজেলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভ্যাকসিনের এই সংকটের সমাধান হবে।

একুশে সংবাদ/ওজি
 

Link copied!