উত্তরের ১৬টি নদ-নদী বেষ্টিত, সীমান্ত ঘেঁষা ও হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত কুড়িগ্রাম জেলা। হিমেল হাওয়া ও তীব্র শীতের কনকনে ঠান্ডায় যবুথবু হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন।
এ বছর রাতভর বৃষ্টির মত ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়ছে কুয়াশা। বিকাল থেকে শুরু করে পরদিন সকাল ৯ টা পর্যন্ত স্থানভেদে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ডেকে থাকছে চারিপাশ। সেই সাথে শিরশিরে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় সূর্যদয়ের আগ পর্যন্ত তীব্র শীত অনুভুত হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে বেলা গড়িয়ে অনেক দেরিতে সূর্যের দেখা মিলায় বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ।
এদিকে, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সকাল ৬ টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১০০ ভাগ।
অন্যদিকে, প্রচন্ড ঘন কুয়াশা ও উত্তরীয় হিমেল হাওয়ার কারণে কাজে যেতে পারছে না শ্রমজীবী মানুষেরা।
কুড়িগ্রাম চর হরিকেশ এলাকার বাসিন্দা জয়নাল মিয়া বলেন, কাজ না করলে পেঁটে ভাত যায় না। কিন্তু এই শীতে কাজ করলে হাত-পা জ্বালা পোড়া করে, শরীর কামড়ায়।
রহিমা বেওয়া বলেন, হামরা গুলা গরিব মানুষ কম্বল কেনার টাকা নাই। এখন পর্যন্ত কোন মেম্বার, চেয়ারম্যান কাইয়ো কম্বল দিলো না। খুব কষ্টে আছি।
সোহেল মিয়া বলেন, অতিরিক্ত শীতের প্রভাবে মোর একটা ছোট বাচ্চা জ্বর, সর্দি, কাশিতে কয়েকদিন ধরি ভুগতেছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা: স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, শীতের প্রভাবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ডাইরিয়া, নিউমনিয়া ও শাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কেউ বহির্বিভাগে চিকিৎসাপত্র গ্রহণ করছে। আবার কোন কোন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, এ বছর শীতে ৯ টি উপজেলায় অসহায় দুঃস্থ মানুষদের মাঝে প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কম্বল ও নগদ ৫৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

