AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
সপ্তাহে বিক্রি ১৫ লাখ টাকার সুপারি

মৌলভীবাজারে শতবর্ষের স্বাক্ষী কামালপুর বাজারের প্রাচীন সুপারির হাট



মৌলভীবাজারে শতবর্ষের স্বাক্ষী কামালপুর বাজারের প্রাচীন সুপারির হাট

মৌলভীবাজারের কামালপুর বাজারে শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা প্রাচীন গ্রামীণ সুপারির হাটটি আজও জমজমাট ও প্রাণবন্ত।

জেলায় সুপারির জন্য বিখ্যাত এ প্রাচীন গ্রামীণ হাট এখন শতবর্ষের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর অবস্থান মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৩নং কামালপুর ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে। এই বাজারে বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা হলেও সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার শুক্রবার সুপারি কেনাবেচার জন্য সর্বাধিক খ্যাতি পেয়েছে।

শতবর্ষ আগে নৈসর্গিক প্রকৃতির মনু নদের পাড় ঘেঁষে হাটটি গড়ে উঠে। কালের পরিক্রমায় কামালপুর বাজারের অবকাঠামোগত অনেক পরিবর্তন হলেও শুধু পরিবর্তন হয়নি শনি ও মঙ্গলবারের সুপারি বেচাকেনার হাট। প্রতি সপ্তাহে এ দুইদিন সকাল ৭টার দিকে হাটটি শুরু হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে স্থানীয় কৃষক আর পাইকারদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সকাল ১০টার দিকে হাটটি পুরো জমে যায়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বেশির ভাগ বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই হাটে শনি ও মঙ্গলবারে বিক্রি হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকার লাখ সুপারি। শুধু মৌলভীবাজার জেলা নয়, সমৃদ্ধ এ বাজারটির পরিচিত রয়েছে পুরো সিলেট অঞ্চলজুড়ে।

সুপারি ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, ১৯২০ সালের দিকে মনু নদের পাড় ঘেঁষে কামালপুর বাজারে খুব ছোট আকারে গড়ে ওঠেছিল এই গ্রামীণ সুপারির হাট।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে ছোট বড় বিভিন্ন আকারে সুপারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। অটোরিকশা, অটোভ্যানসহ নানা বাহনে সুপারি নিয়ে হাটে আসছেন বিক্রেতারা। কেউ আসছেন নিজের গাছের সুপারি নিয়ে। এর মধ্যে কেউ আছেন পাইকার, যাঁরা গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে সুপারি কিনে এই হাটে এনে বিক্রি করেন। কেউ বস্তার সুপারি খুলে মাটিতে মেলে ধরেছেন। কেউ বস্তার মুখ খুলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অনেকে বিভিন্ন আকারের কাঁচা সুপারিও নিয়ে এসেছেন।

এর মধ্যেই পাইকাররা দরদাম করছেন। দরদামে পোষালে একটু আড়ালে সরে গিয়ে গণনা শরু হচ্ছে। পাইকাররা যাঁর যাঁর মতো স্থানে স্তুপ করে রাখছেন সুপারি। আশপাশের গ্রামের লোকজন আসতে আসতে সকাল ৮টা, ৯টা বা ১০টা বেজে যায়। তাঁরা সকালবেলা গাছ থেকে সুপারি পেড়ে সরাসরি হাটে আসেন। টুকরি নিয়ে এ রকম অনেককেই হাটে আসতে দেখা গেছে। সময় গড়ায়, আর সুপারি নিয়ে আসা লোকজনের সংখ্যাও বাড়তে থাকে; বাড়তে থাকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোলাহল। সরগরম হয়ে ওঠে সুপারির হাট।

স্থানীয় সুপারি ব্যবসায়ীরা বলেন, শুধু মৌলভীবাজার নয়; পুরো সিলেট অঞ্চলে পরিচিত এই সুপারির হাট। বিক্রির পরিমাণ ও অংশগ্রহণের দিক থেকে এটি সিলেট বিভাগের অন্যতম প্রাচীন বৃহত্তম সুপারির হাট হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বাজারটির বয়স শতবর্ষেরও বেশি। তীরবর্তী ও আশপাশের গ্রামগুলোকে কেন্দ্র করে যুগ যুগ ধরে এটি টিকে আছে। হবিগঞ্জ জেলাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্রেতারা এই হাটে সুপারি নিয়ে আসেন। সকাল ১০টার পর থেকেই শুরু হয় জমজমাট কেনাবেচা, যা চলে দুপুর পর্যন্ত। সন্ধ্যা নামতেই হাটের কোলাহল মিলিয়ে যায়। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা সুপারি নিয়ে ঘরে ফিরলে মুহূর্তেই পরিণত হয় ‘ভাঙা হাটে’।

স্থানীয় লোকজন ও বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে, হাটে প্রতি ‘ঘা’ সুপারি (১০টিতে ১ ঘা) আকার অনুযায়ী ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় সুপারিগুলো ৩৫ থেকে ৫০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। জেলা সদর উপজেলার জমুনিয়া গ্রামের রানা মিয়া জানান, ‘মের এক ব্যক্তির বাড়িতে আগাম দুই হাজার সুপারি গাছের ফসল কিনে রেখেছিলেন। মাসখানেক ধরে কামালপুর বাজারে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বস্তা বোঝাই পাকা সুপারি নিয়ে হাটে এসে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। ’

সদর উপজেলার রাধানগর গ্রামের সুপারি ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান জানান, ‘সার গাছের সুপারি বিক্রি করতে দুটি প্লাস্টিকের বস্তায় পণ্য নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সুপারি হাটে এসেছেন। প্রতি ‘ঘা’ সুপারি ৪০ টাকা দরে প্রায় দুই হাজার সুপারি বিক্রি করছেন। ’

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজার ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই হাটে প্রতি সপ্তাহে বিক্রি হয় প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার সুপারি। এই হাটে বৃহত্তর সিলেটের নবীগঞ্জ, ইনাতগঞ্জ, গোয়ালাবাজার, টেংরা, আদমপুর, শমসেরনগর, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে সুপারি কিনে নিয়ে যান। সকাল ১০টার দিকে হাটটি পুরো জমে যায়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বেশির ভাগ বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়।

এরপরও কারও যদি সুপারি অবিক্রিত থাকে, তাহলে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে পারে। তবে সাধারণত দুপুরের মধ্যে সুপারির হাটটি গুটিয়ে যায়। বিকেল হলে হাটের অন্য পণ্য আসতে শুরু করে। শুধু মৌলভীবাজার জেলা নয়, সিলেট, হবিগঞ্জ এমনকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেও সুপারি কিনতে আসেন ব্যবসায়ীরা। বাজার শেষে সুপারির বস্তা বোঝাই করে ট্রাক-পিকআপসহ বিভিন্ন পরিবহনযোগে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

এ হাটের প্রভাব শুধু সুপারি নয়। বাজার সংলগ্ন অন্যান্য দোকান, হোটেল ও পরিবহন ব্যবস্থাতেও পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এটি শত বছরের পুরোনো। মনু নদী তীরবর্তী, হাওর, সমতলের গ্রামগুলোকে কেন্দ্র এখনো এটি জমজমাট ও প্রাণবন্তভাবে টিকে আছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটির অবস্থান ভালো। এই হাটটি মৌলভীবাজারের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!