AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ভোলার কুঞ্জেরহাটে নিয়মের বাইরে অধিকাংশ প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান



ভোলার কুঞ্জেরহাটে নিয়মের বাইরে অধিকাংশ প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বৃহত্তম ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে কুঞ্জেরহাটের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে ব্যাংক, বীমা ও বেশ কয়েকটি এনজিও।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদরাসার সংখ্যা প্রয়োজনীয় হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্বাভাবিক হারে গড়ে উঠছে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই।

প্রাপ্ত তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের প্রাইভেট শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত একটি মিশ্র ধারা। অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানদের এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান দুই কারণে—এক, অতিরিক্ত আর্থিক সামর্থ্য; দুই, মেধা ও নৈতিকতার চেয়ে ফলাফল, বিশেষ করে জিপিএ-৫ পাওয়ার আশায়। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো এই মনস্তত্ত্বকে পুঁজি করে বাণিজ্যিকভাবে প্রসার ঘটিয়েছে। প্রবাসী পরিবারের সন্তানরাই এখানে তুলনামূলক বেশি পড়ছে। প্রবাসী অভিভাবকরা দূরে থাকায় স্থানীয় আত্মীয়স্বজন বা অভিভাবকের পরামর্শেই তারা সন্তানের পড়াশোনায় ব্যয় করছেন মোটা অঙ্কের টাকা।

ভোলার বোরহানউদ্দিনের কৃতিসন্তান ও ৪৪তম সাধারণ বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত নোমান হাসান বলেন,“এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ উদ্যোক্তা মূলধারার কোনো পেশায় জায়গা না পেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন—যা অনেকটা ব্যবসায়িক দোকানের মতো। আবার কিছু চাকরিজীবী ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মিলে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অল্প শিক্ষিত ও হঠাৎ অর্থবান মানুষের সন্তানদের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে পড়ানো এখন একধরনের সামাজিক মর্যাদা। এসব সুযোগে গজিয়ে উঠছে ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান।”

তিনি আরও বলেন,“এসব প্রতিষ্ঠানে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা চলে। শিক্ষার্থীদের বোঝানোর পরিবর্তে রেডিমেড নোট মুখস্থ করানো হয়। ফলে পরীক্ষায় ১০০ তে ১০০ পেলেও তারা আসলে কিছুই শেখে না। অভিভাবকরা এই কৃত্রিম ফলাফলে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংখ্যা কম, শিক্ষকদের মধ্যে অনৈক্য এবং আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। তাই অভিভাবকরা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু না বুঝে মুখস্থ করা বিদ্যায় সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, মানুষ হওয়া যায় না।”

কুঞ্জেরহাট বাজারে বর্তমানে স্কুল ও মাদরাসা মিলে ৩০টিরও বেশি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে নুরানি, হিফজ, কওমি এবং প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া হয়। কিছু মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ স্কুল বিভাগও চালু রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে স্থানীয় এমপিওভুক্ত বিদ্যালয় ও মাদরাসায় শিক্ষার্থী সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে—বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে।

দৈনিক যুগান্তর–এর লালমোহন প্রতিনিধি জসিম জনি বলেন,“সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে পাঠদান এখন অনেকটাই গতানুগতিক। শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিক্ষার্থীরা স্কুলের পাঠে আশানুরূপ ফলাফল পায় না। তাই অভিভাবকরা বিকল্প হিসেবে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কৌশল হলো ‘এ+ বাড়ানো’। তারা ভর্তি ও পরীক্ষার আগে বাছাই করে শিক্ষার্থী নেয়, যাতে শতভাগ পাস নিশ্চিত হয়। ফল ভালো হলেও মান বাড়ে না।”

কুঞ্জেরহাটের উল্লেখযোগ্য প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—জয়নাল আবেদীন ক্যাডেট স্কুল ও মাদরাসা, কুঞ্জেরহাট ইসলামী একাডেমি, দারুল আজহার মডেল মাদরাসা, জাবালে নূর মডেল মাদরাসা, গ্রীনভিউ মডেল স্কুল, সোনামণি কিন্ডারগার্টেন, আল হিকমাহ রেসিডেনশিয়াল মডেল মাদরাসা, কুরআনিক সায়েন্স মডেল মাদরাসা ও কুঞ্জেরহাট বায়তুল কুরআন মডেল মাদরাসা।

এর মধ্যে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত কুঞ্জেরহাট ইসলামী একাডেমি ইতোমধ্যে জেলার অন্যতম সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মরহুম হাফেজ হাসান মাসুদ বাবুল প্রতিষ্ঠিত জয়নাল আবেদীন ক্যাডেট স্কুল ও মাদরাসা এলাকাজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

কুঞ্জেরহাট ইসলামী একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মো. আমানউল্লাহ বলেন,“আমাদের প্রতিষ্ঠান ইবতেদায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলার শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। গুণগত মান ও স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোলা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

জাবালে নূর মডেল মাদরাসার পরিচালক মাওলানা হাসান সিকদার বলেন,“শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।”

কুরআনিক সায়েন্স আইডিয়াল মাদরাসার পরিচালক আল আমিন হাওলাদার বলেন,“আমরা এমন প্রজন্ম গড়তে চাই যারা কুরআনের আলোয় আলোকিত হয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

হাফিজ ইব্রাহিম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকারিয়া আজম বলেন,“কুঞ্জেরহাটের কিছু প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও, বর্তমানে বেশিরভাগই বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্বের অভাব, ইভটিজিং ও শিক্ষার অনুপযুক্ত পরিবেশ শিক্ষার্থীদের এসব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ঠেলে দিচ্ছে। তবে এ প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে নতুন প্রজন্মের বাস্তবমুখী শিক্ষা অর্জনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।”

সর্বোপরি, প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা এখন সময়ের দাবি। দেশের সামগ্রিক প্রাইভেট শিক্ষা ব্যবস্থায় নীতিগত সংস্কার ও একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক বোর্ড গঠন অপরিহার্য বলে মনে করছেন শিক্ষা সচেতন মহল।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!