ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank

রামগঞ্জে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্তের পরিবার


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর
০৮:১৭ পিএম, ১০ আগস্ট, ২০২২
রামগঞ্জে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্তের পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশের মতন রামগঞ্জেও মাছ, মাংস, চাল, ডাল, সবজি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষসহ মধ্যবিত্তরা। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েও খরচের লাগাম টানতে পারছেননা। 

পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, অনেকের পক্ষে সংসারের খরচ চালানোই এখন কষ্টকর। বাজারে জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি স্বল্প ও নির্ধারিত আয়ের মানুষের দুর্দশা বাড়িয়ে দিয়েছে। সংসার চালাতে লড়াই করতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষদের। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ধাক্কা লেগেছেসংসারে। আয় বাড়েনি। বেড়েছে ব্যয়। আর এতেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। কাটছাঁট করতে হচ্ছে বিভিন্ন খাতে। তারপরও কুলিয়ে উঠতে পারছেননা মানুষ। চাল, ডাল, আটা, ডিম, সবজি ও মাংসসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামইচড়া। তাই বাজার করতে এসে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে রীতি মতো হিমশিম খেতে হয় ক্রেতাদের।

গতকালকে রামগঞ্জ ও সোনাপুরবাজারঘুরে দেখা গেছে, বাজারের সব চেয়ে সস্তা পাঙ্গাশ মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। এক কেজি ওজন বা মাঝারি আকারের পাঙ্গাশ ১৫০ টাকা আর বড় পাঙ্গাশ বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। রুই-কাতলা মাছ আকারভেদে ২৮০-৪০০ টাকা, নওলা ২৫০ টাকা কেজি, কালবাউশ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, শিং,  মাগুর ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, ট্যাংরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, আইড় মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। চাষের কই বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও বিক্রি হয়েছে ২০০-২৫০ টাকায়। তেলাপিয়া কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২৫০ টাকা। 

এছাড়া প্রতি কেজি চিংড়ি আকারভেদে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহেও এই আকারের ইলিশের দাম ছিল ৬০০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০টাকায়। কিছুদিন পূর্বে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও এখনতা ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগির দাম ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে পৌছেছে ২৭০ টাকায়। কিছুদিন আগে যে দেশী মুরগির দাম ছিল ৩৫০ টাকা এখনতা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩৭০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে লেয়ার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ টাকা। কাঁচামরিচ ২৮০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ২৫ টাকা, মুলা ৫০টাকা, শাক ৪০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, করলা ৭০, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, খিরা ৪০, পেঁপে ৩০, গাজর ৪০, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মূলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা আর আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ডিমের দাম। 

গত সপ্তাহে ১১০ টাকায় এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা, রুলার ময়দা ৪৮ টাকা, গমের আটা ৩৫ টাকা, ভাল মানের মশুরের ডাল ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সব কিছুর দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় আরো বিপদ আসতে চলেছে। মাসের শেষে উপার্জিত টাকার সবটা চলে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজন মিটাতে। ইউক্রেন আর রাশিয়ার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, শাক-সবজিসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামকে আর আটকে রাখা যাচ্ছে না। যার একমাত্র কারণ বাজার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত নজরদারি নেই, নেই তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ফলে দেখা যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের অসাধুতার পরিচয়। তারা বিভিন্ন বাহানা দেখিয়ে মূল্য বাড়িয়ে রাখছে। পণ্যের গায়ে পূর্বের মূল্য লেখা থাকলেও তা বিক্রি করছে বর্তমান মূল্যে। এর কারণ কিছু অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী তাদের স্বার্থে মজুদকৃত পণ্য বাজারে ছাড়ছে না আরও অধিক মুনাফার লোভে। যা নিম্ন আয়ের লোকদের বিপাকে ফেলছে। 
 

 

 

 

একুশে সংবাদ/ছা.হো/এস.আই