ঢাকা রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

বিনোদন স্পটগুলো বন্ধ থাকায়, খোলা স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড়


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৬:৫৩ পিএম, ১৬ মে, ২০২১
বিনোদন স্পটগুলো বন্ধ থাকায়, খোলা স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড়

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে সারাদেশের মতো গাজীপুরের বিনোদন স্পটগুলোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। ঈদের ছুটিতে সরকারি বিধি নিষেধ অমান্য করে সরগরম হয়ে উঠেছে জেলার বিভিন্ন উম্মুক্ত দর্শনীয় স্পট।

এসব স্পটে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। তারা ঘুরতে এসে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না। মুখে মাস্ক ও শারীরিক দূরত্বের বালাই নেই। করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে গাজীপুরের বিনোদন স্পটগুলো। এ অবস্থায় ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে শ্রীপুর পৌরসভার ওয়ায়েদ্দা দিঘীর পাড়ে ঘুরতে এসেছেন দর্শনার্থীরা।

বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে বিনোদন স্পটগুলো বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে অনেকেই ঘুরতে বের হয়েছেন। রোববার (১৬ মে) বিকেলে দিঘীর পূর্ব পাড়ে এ দৃশ্য দেখা যায়। দর্শনার্থীদের কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ কর্মজীবন থেকে বেরিয়ে একটু প্রশান্তির শ্বাস নিতে এসেছেন এসব উম্মুক্ত স্থানে।

যদিও ঘুরতে আসা অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মাস্ক ছাড়াই অনেক মানুষ এসব জায়গায় ঘোরাঘুরি করছে। দর্শনার্থীরা বলছেন, তারা জানেন দেশে করোনার পরিস্থিতি খারাপের দিকে। ঈদের ছুটিতে না ঘুরলে ভালো লাগে না। তাই অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে আবার অনেকে পরিবারের সদস্যদের সাথে এখানে ঘুরতে এসেছেন। স্থানীয়রা জানান, দুপুরের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওয়ায়েদ্দা দিঘীর পাড়ে ঘুরতে এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী।

লেগুনা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে এখানে ঘুরেতে আসছেন তারা। দর্শনার্থীরা জানালেন, বিধিনিষেধের কারণে দেশের সব বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ। ঈদে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো ভালো জায়গা নেই। তবে ওয়ায়েদ্দা দিঘীর পাড় খুব সুন্দর জায়গা। এখানের আবহাওয়া ও পরিবেশ অনেক সুন্দর। দিঘীর পাড়ে বসে আশেপাশের সবুজ শ্যামল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে প্রচুর দর্শনার্থী হয়েছে দিঘীর পাড়ে। পাশের কাপাসিয়া উপজেলা থেকে স্ত্রী, ছোট ভাই ও ছেলে ইসমামকে (৩) নিয়ে এসেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিক ওয়াজ করুনি। তিনি বলেন, সবার মুখে আগে শুনেছি এ জায়গাটি অনেক সুন্দর। তাই অনেকদিন থেকে ইচ্ছা ছিল এখানে আসার।

আসার পর অনেক ভালো লাগছে। শ্রীপুরের সীমান্তবর্তী কাওরাইদ থেকে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে এসছেন জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্ত্রী অনেকদিন ধরে বলছিল কোথাও ঘুরতে নেওয়ার জন্য। ঢাকায় চাকরি করি। ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও পরিবারকে সময় দিতে পারি না। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ওয়ায়েদ্দা দিঘীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি। ঈদের ছুটির সুযোগটা কাজে লাগালাম। তবে বৃষ্টি এসে আনন্দ কিছুটা নষ্ট করে দিয়েছে। বৃষ্টি না হলে আরও ভালো লাগত।

ওয়ায়েদ্দা দিঘীর পাড়ে ঘুরতে আসা নাজমুল হাসান, শাহরিয়ার শাকিল, রাজু আহম্মেদ, মোহাম্মদ হারুন ও নাবিল আহমেদ জানান, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন বিভিন্ন স্থানে মোটর বাইক দিয়ে আমরা কয়েক বন্ধু একসাথে ঘুরেছি। অনেকের কাছে শুনেছি ওয়ায়েদ্দা দিঘীর পাড়ে অনেকে ঘুরতে আসে।

তাই, আমরাও এখানে ঘুরতে এসেছি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেন এসেছেন? তারা জানান, লোভ সামলাতে পারিনি, আবেগ থেকে চলে এসেছি। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঘুরছি। অসুবিধা হচ্ছে না। সঙ্গে হ্যাক্সিসল নিয়ে এসেছি, কিছুক্ষণ পরপর হাতে মাখছি। শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারী কলেজের অনার্স (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার জয়া।

চাচা সাকিব হাসান সানির সাথে তিনিও দিঘীর পাড়ে ঘুরতে এসেছেন। ঘুরতে ইচ্ছে করছিল, তাই চাচার সাথে এসেছি। মুখে মাস্ক নেই কেন? জানতে চাইলে সে জানায় আমিও জানি মাস্ক ছাড়া বাহিরে বের হওয়া নিষেধ। আমার মাস্ক আছে। ব্যাগে রেখে দিয়েছি। শ্রীপুর নাগরিক অধিকার সংরক্ষন পরিষদের আহবায়ক আনোয়ার হোসে বলেন, গণজমায়েত এড়াতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিনোদন কেন্দ্র ছাড়াও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে গেলে বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখার উদ্দেশ্য অনর্থক হবে। তাই ঘর থেকে না বের হওয়ায় ভালো। ঘুরতে বের হলেও শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব স্থানে যাওয়া উচিৎ। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ঈদে সবাই একটু ঘুরতে চায়। তাই পুলিশ উম্মুক্ত স্থানে তেমন কড়াকড়ি করেনি। তবে আমাদের অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া আছে যেন সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘুরতে বলা হয়।