ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে বর্তমান সরকার যেমন বদ্ধপরিকর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত চিন্তা, মতপ্রকাশ ও সংস্কৃতি চর্চার অবাধ ক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
শনিবার (১৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সেমিনার কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান, মনন ও সংস্কৃতি চর্চার জায়গা। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে নিজেদের গড়ে তুলে দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক দিকগুলো গণমাধ্যমে উঠে এলে যেমন গর্ববোধ তৈরি হয়, তেমনি অপ্রয়োজনীয় নেতিবাচক প্রচার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই জাতীয় পর্যায়ে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করলে অনেক সমস্যার সমাধান বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে তোমাদের মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সম্ভব। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক কথা বাইরে গেলে আমাদের গর্বে বুক ভরে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি কাউকে ভুল বুঝিয়ে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি ও নীতিমালাকেই তিনি নিজের পথনির্দেশক হিসেবে দেখেন। কাজের মধ্য দিয়েই তিনি নিজের অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করতে চান।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ইবি প্রেসক্লাব-এর সভাপতি আবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন, ইবি সাংবাদিক সমিতি-এর সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর সভাপতি সাকিব আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলমসহ তিন সংগঠনের সাংবাদিকবৃন্দ।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে হলকেন্দ্রিক সমস্যা, পরিবহন ব্যবস্থা ও একাডেমিক বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত বলে জানান। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বাসের সময়সূচি পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা যাতে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকেন, সেটি নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তিনি নিয়মিত মনিটরিং করবেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নির্ধারিত স্থানে দ্রুতই এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। পূর্বে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

