ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. পডকাস্ট

তিন জেলায় তেল ফসলের চাষ বৃদ্ধি


Ekushey Sangbad
কৃষি ডেস্ক
১১:২৫ এএম, ৩১ অক্টোবর, ২০২২
তিন জেলায় তেল ফসলের চাষ বৃদ্ধি

রবি মৌসুমে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলায় তেল ফসলের চাষাবাদ বৃদ্ধি  করছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

গোপালগঞ্জ জেলায় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এই তিন জেলার ১৭টি উপজেলায় সরিষা চাষাবাদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভোজ্য তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাতের বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৭ ও বারি সরিষা-১৮ এর চাষ করা হবে। এতে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কম জমিতে কৃষক অধিক তেল ফসল উৎপাদন করে লাভবান হবেন । ফলে ভোজ্য তেলের আমদানী নির্ভরতা কমবে ও বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয় হবে।

 

কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. এমএম কামরুজ্জামান বলেন, আমরা ৩ জেলার ১৭ টি উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৭ ও বারি সরিষা-১৮ চাষাবাদের পরিকল্পনা করেছি। এছাড়া ১০ হেক্টর জমিতে তিল, ১৯ দশমিক ১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ও ৬ দশমিক ৩৩ হেক্টর জমিতে চীনা বাদাম চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। এসব চাষবাদে আমরা ৭০০ কেজি সরিষা, ৭০ কেজি তিল, ৫০০ কেজি বাদাম, ১৬৫ কেজি সূর্যমুখী  বীজ তিন জেলার প্রায় ২ হাজার কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করব। সেই সাথে বিনামূল্যে কৃষকদের সার দেয়া হবে। আমরা কৃষকদের ইতিমধ্যে এসব ফসল চাষাবাদে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। 

 

আমাদের উচচ ফলনশীল সরিষা হেক্টরে ১ দশমিক ৫ টন থেকে ২ দশমিক ৫ টন ফলন দেয়। চীনা বাদাম হেক্টরে ২ টন ফলবে। তিল ১ দশমিক ৪ টন ফলন দেবে। সূর্যমুখী ফলবে প্রতি হেক্টরে ২ টন। প্রচলিত তেল ফসলের জাতের তুলনায় আমাদের জাতগুলো দুই থেকে চারগুন ফলন দেয়। আমাদের উদ্ভাবিত জাতের  তেল ফসল থেকে ৪০/৪৫ ভাগ তেল পাওয়া যায়।

 

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ সরেজমিন গবেষণা ইনস্টিটিউটের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এইচএম খায়রুল বাসার বলেন, আমরা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য মাঠ পর্যায়ে ৯ বছর ধরে কৃষকদের মাঠে গবেষণার কাজ করছি। কৃষক আমাদের চাষাবাদের কলা কৌশল গ্রহণ করেছেন। এই কারণে গোপালগঞ্জ ও আশপাশ জেলায় ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বছর আমরা তেল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি।

 

আমাদের উদ্ভাবিত তেল ফসল চাষাবাদ করে বেশি ফলন পেয়ে কৃষক লাভবান হবেন। স্থানীয় জাতের তেল ফসল হেক্টরে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত উৎপাদিত হয়। সেখানে আমাদের জাতগুলো ১ হাজার ৫০০ কেজি থেকে ২ হাজার ৫০০ কেজি পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। দেশে আমাদের উৎপাদিত তেল ফসলের চাষাবাদ সম্প্রসারণ করতে পারলে আমাদানী নির্ভরতা অনেকাংশেই কমে আসবে।

 

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার শ্রীরামকান্দি গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, গত মৌসুমে আমি বারি সরিষা-১৮ চাষ করেছিলাম। হেক্টরে এই সরিষা ২ দশমিক ৩৫ টন ফলন পেয়েছিলাম। এই সরিষাতে আমি ৪০ ভাগের বেশি তেল পেয়েছি। আগে স্থানীয় জাতের রাই সরিষা আবাদ করে হেক্টরে মাত্র সাড়ে ৪০০ কেজি ফলন পেতাম। এতে ২৫ ভাগের কম তেল পাওয়া যেত। বারি সরিষায় রোগবালাই কম। তাই বেশি ফলন পেয়ে লাভবান হওয়া যায়।

 

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার লেবুতলা গ্রামের কৃষক জাহিদ ফকির বলেন, আমি গতবছর বারি সরিষা-১৪ ও বারি সরিষা-১৭ করেছি। এই সরিষা হেক্টরে ১ দশমিক ২ টন ফলেছে। স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন এই জাতের সরিষা মাঠ থেকে কেটে বোরোধান করা যায়। সরিষার আগে আমন ধান করেছিলাম। এই সরিষার বদৌলতে দুই ফসলী জমি ৩ ফসলী জমিতে পরিনত হয়েছে। এক জমি থেকে বছরে ৩ বার ফসল পাচ্ছি। বেশি ফসল পেয়ে আমি লাভবান হচ্ছি। এই বছরও আমি বারি সরিষা আবাদ করব।

একুশে সংবাদ/ বা.স.স/ রখ