ঢাকা শনিবার, ০৬ মার্চ, ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

অভিশপ্ত বছরে তারার দেশে পাড়ি দিয়েছেন যে সকল ক্রীড়ানক্ষত্র


Ekushey Sangbad
স্পোর্টস ডেস্ক
০১:৪২ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০
অভিশপ্ত বছরে তারার দেশে পাড়ি দিয়েছেন যে সকল ক্রীড়ানক্ষত্র

মহামারীর এই বছরে অন্যসব কিছুর মতোই ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছিল খেলাধূলার জগতেও। বিশ্বজুড়ে বাতিল কিংবা স্থগিত রাখতে হয়েছে একের পর এক মেজর স্পোর্টিং ইভেন্ট। পাশাপাশি ২০২০-তে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন ক্রীড়াজগতের এমন কিছু নক্ষত্র, যারা অমর হয়ে রয়ে যাবেন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২০-সালে তারার দেশে পাড়ি দিলেন যে সকল ক্রীড়ানক্ষত্র: কোবে ব্রায়ান্ট: লস অ্যাঞ্জেলস লেকারস কিংবদন্তি তথা সর্বকালের অন্যতম সেরা বাস্কেটবল প্লেয়ার কোবে ব্রায়ান্ট আমাদের ছেড়ে গিয়েছেন অভিশপ্ত ২০২০-তেই।

গত জানুয়ারিতে ভয়াবহ এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মাত্র ৪২ বছর বয়সী ব্রায়ান্টের। ব্রায়ান্টের সঙ্গেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় তাঁর আট বছরের কন্যা সন্তান জিয়ান্না ব্রায়ান্ট এবং কপ্টারের আরও ৭ জন যাত্রী।

বাপু নাদকার্নি: ১৭ জানুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রমেশচন্দ্র গঙ্গারাম নাদকার্নি৷ যিনি ভারতীয় ক্রিকেটে বাপু নাদকার্নি বলে পরিচিত ছিলেন৷ ১৯৬৩-৬৪ চেন্নাই (তৎকালীন মাদ্রাজ) টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টানা ২১ মেডেন নিয়ে বিশ্বক্রিকেটে নজির গড়েছিলেন নাদকার্নি৷ দেশের হয়ে ৪১টি টেস্ট খেলা এই বাঁ-হাতি স্পিনার ইকনমিক্যাল বোলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন ক্রিকেট জগতে৷ মৃত্যুকালে ৮৬ বছর বয়স হয়েছিল তাঁর।

বলবীর সিং (সিনিয়র): গত মে মাসে চলে গেলেন তিনবারের অলিম্পিক সোনাজয়ী দলের সদস্য বলবীর সিং সিনিয়র। ১৯৪৮, ১৯৫২, ১৯৫৬ টানা তিনটি অলিম্পিকে সোনাজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন এই কিংবন্তি। পরবর্তীতে পদ্মশ্রী, মেজর ধ্যানচাঁদ লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন তিনি। বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।

এসএম সালাউদ্দিন: করোনার উপর্সগ নিয়ে গত ৩০ মে মারা যান সাবেক ফুটবলার এসএম সালাউদ্দিন (৬০)। নারায়ণগঞ্জ থেকে উঠে এসে সালাউদ্দিন ঢাকার ফুটবলে নজর কাড়েন। ১৯৮২ সালে বিজেএমসি দিয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা সালাউদ্দিন তিন বছর ফরাশগঞ্জে খেলেছেন, দলটির অধিনায়কও ছিলেন তিনি।

নুরুল হক মানিক: গত ১৪ জুন করোনা উপসর্গ নিয়ে ৫৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সাবেক ফুটবলার নুরুল হক মানিক। মৃত্যুর পর জানা যায় মানিক করোনা পজিটিভ ছিলেন। ঢাকার ফুটবলে চারটি ক্লাব আরামবাগ, ইয়ংমেন্স, ব্রাদার্স ও মোহামেডানের অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। মানিক ছিলেন তার সময়ে দেশের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ছিলেন বাফুফের কোচ।

স্যার এভারটন উইকস: গত ১ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ক্রিকেটার স্যার এভারটন উইকস। ১৯৪৮ সালে টেস্ট অভিষেকের বছর মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ১৯৫১ সালে উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মান এবং ১৯৯৫ সালে নাইটহুড উপাধি লাভ করেন তিনি।

চেতন চৌহান: ৭৩ বছর বয়সে জাতীয় দলের প্রাক্তন ওপেনার চেতন চৌহান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গত অগাস্টে। করোনা আক্রান্ত হয়ে গুরুগাঁওয়ের হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। মারণ ভাইরাসের জেরে শারীরীক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে তাঁর। ১৬ অগস্ট মৃত্যু হয় তাঁর।

নওশেরউজ্জামান: করোনার কাছে হেরে গেলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য নওশেরউজ্জামান। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গ্রিনলাইফ হাসপাতালে ভর্তি হন ৭০ দশকের এই তুখোড় স্ট্রাইকার। পরে ২১ সেপ্টেম্বর ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে করোনার সঙ্গে লড়াই করে ৭২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা মোহামেডানের অন্যতম স্ট্রাইকার ছিলেন নওশেরউজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঢাকা লিগে ২১ গোল দিয়ে সর্বাধিক গোলদাতাও হয়েছিলেন তিনি। ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটও খেলেছেন সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে। ঢাকা মোহামেডান ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে প্রায় এক যুগ ঢাকা ক্রিকেট লিগে ওপেনিং পজিশনে খেলেছেন নওশের।

ডিন জোন্স: ৫৯ বছর বয়সে চলে গেলেন ডিন জোন্স ওরফে ‘প্রফেসর ডিনো’। ১৯৮৬ চেন্নাই টেস্টে (তৎকালীন মাদ্রাজ) ২১০ রানের ইনিংস খেলে পাদপ্রদীপের আলোয় আসা প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়া ব্যাটসম্যান ধারাভাষ্যের জগতে ছিলেন আরও জনপ্রিয়। ১৯৮৭ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলেরও সদস্য ছিলেন প্রোফেসর ডিনো। ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের মাটিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। আইপিএলে ধারাভাষ্যের কারণে তখন এদেশে ছিলেন তিনি।

বাদল রায়: নওশেরউজ্জামানের পাশাপাশি চলতি বছর বাংলাদেশ হারিয়েছে দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বাদল রায়কে। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ মেডিকেলে মারা যান তিনি। ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে মোহামেডানের অধিনায়ক ছিলেন বাদল রায়। ১৯৮৬ সালে টানা তিন বছর পর মোহামেডানের লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। খেলা ছাড়ার পর মোহামেডানের ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সাবেক এই তারকা ফুটবলার। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি হিসেবে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অসুস্থ অবস্থাতেও ফুটবলের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। সর্বশেষ বাফুফে নির্বাচনে কাজী সালাউদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সভাপতি পদে লড়াই করেন বাদল রায়।

দিয়াগো ম্যারাডোনা : অভিশপ্ত ২০২০ কেরে নিল ফুটবলের রাজপুত্র দিয়াগো ম্যারাডোনাকেও। ১৯৮৬ বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনার অধিনায়ক, নাপোলির ফুটবল ঈশ্বর, ‘হ্যান্ড অফ গড’র স্রষ্টা তাঁর বিশ্বজোড়া অনুরাগীদের কাঁদিয়ে চলে গেলে না ফেরার দেশে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন দিয়েগো। অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি ফিরে সুস্থও হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু ২৫ নভেম্বর বাসভবনেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল মাত্র ৬০।

পাওলো রোসি: ম্যারাডোনা প্রয়াণের দিনকয়েক বাদে ৯ ডিসেম্বর প্রয়াত হলেন আরও এক ফুটবল কিংবদন্তি পাওলো রোসি। ১৯৮২ বিশ্বজয়ী ইতালির অধিনায়ক ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ওই টুর্নামেন্টে সর্বাধিক ৬টি গোল করে গোল্ডেন বুট এবং টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার হিসেবে গোল্ডেন বলও ঝুলিতে ভরেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসে ক্যান্সার বাসা বেঁধেছিল ১৯৮২ ইউরোপের সেরা ফুটবলারের। মাত্র ৬৪ বছরেই তারার দেশে পাড়ি দিলেন রোসি।

জেরার্ড হাউলিয়ার: ১৪ ডিসেম্বর ৭৩ বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন লিভারপুলের কিংবদন্তি ফরাসি কোচ জেরার্ড হাউলিয়ার। ১৯৯৮-২০০৪ তাঁর কোচিংয়ে ৫টি মেজর খেতাব এসেছিল রেডস’দের ঘরে। যার মধ্যে ২০০০-০১ ত্রিমুকুট জিতেছিল লিভারপুল। ওই মরশুমে উয়েফা কাপ, এফএ কাপ এবং লিগ কাপ জিতেছিল লিভারপুল।

জন অ্যাডরিচ: ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লিজেন্ড জন অ্যাডরিচ ২৩ ডিসেম্বর ৮৩ বছর বয়মে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত দেশের হয়ে খেলেন অ্যাডরিচ। দেশের হয়ে ৭৭ টেস্টে অংশ নিয়ে ১২টি সেঞ্চুরি আর ২৪টি ফিফটির সাহায্যে ৪৩.৫৪ গড়ে ৫ হাজার ৩৬১ রান সংগ্রহ করেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সারের হয়ে ২৩ মৌসুমে ১০৩টি সেঞ্চুরির সাহায্যে ২৯ হাজার ৭৯০ রান সংগ্রহ করেন তিনি।

রবিন জ্যাকম্যান: ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার রবিন জ্যাকম্যান ২৫ ডিসেম্বর ৭৫ বছর বয়সে কেপটাউনে মারা যান। ভারতে জন্মানো জ্যাকম্যানের বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে, কিন্তু গভীর সংযোগ ও সম্পর্ক দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে জ্যাকম্যান থিতু হন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানেই ক্যারিয়ার গড়েন ধারাভাষ্যকার হিসেবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার হলেও ইংল্যান্ডের হয়ে মাত্র চারটি টেস্ট ও ১৫টি ওয়ানডে খেলতে পেরেছেন জ্যাকম্যান। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ৩৯৯ ম্যাচে শিকার করেন ১৪০২ উইকেট।

একুশে সংবাদ/জ/আ