AB Bank
ঢাকা রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ধ্বংস হচ্ছে বনাঞ্চল, হুমকির মুখে পরিবেশ


Ekushey Sangbad
হাসান কাজল
০৯:৪৪ পিএম, ৫ মে, ২০২৪
ধ্বংস হচ্ছে বনাঞ্চল, হুমকির মুখে পরিবেশ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে আগুনের ঘটনা ব্যাপকহারে বাড়ছে। সুন্দরবন, ভাওয়াল, মধুপুরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনে আগুন নিত্যদিনের ঘটনা এখন। শুকনো মৌসুমে এসব আগুনে পুড়ে ব্যপকভাবে উজাড় হচ্ছে বনভূমি। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। সরকারি হিসেবে এদেশে বনভূমির পরিমান অয়তনের ১৫.৫৮ ভাগ। যার পরিমাণ দাড়ায় সর্বমোট ২৩ লাখ হেক্টর। এর মাঝে উজাড় হওয়া বনভূমি, অবৈধ দখল, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্ধ, সড়ক, মহা-সড়ক র্নিমাণের ভূমি বাদ দেওয়া হলে বনভূমির পরিমাণ আরও অনেক কম। যে কারণে দেশেরে প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।  

বনভূমি উজাড় বলতে বনে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছপালা কেটে বা পুড়িয়ে ধ্বংস করা বোঝায়। নানা কারণে বন উজাড় হচ্ছে। গাছপালা কেটে পুড়িয়ে কাঠকয়লা হিসাবে বিক্রি, জ্বালানী কাঠ হিসেবে সংগ্রহ, পশুপালনে চারণভূমি হিসেবে ব্যবহার, বিভিন্ন প্রকার চাষাবাদ, বন কেটে কাঠ হিসেবে বিক্রয়সহ ছিন্নমূল মানুষের বাসস্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বনায়ন না করে বন উজাড়ের ফলে, জৈব বিন্যাসের ক্ষতি ও অনুর্বরতা সৃষ্টি হয়েছে। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিবেশগত জৈব পৃথকীকরণের ওপর এর মন্দ প্রভাব পড়েছে। সাধারণত বন ধ্বংস হয়ে যাওয়া এলাকাগুলিতে খুব বেশি ভূমিক্ষয় হয় এবং এগুলি খুব তাড়াতাড়ি পতিত জমিতে পরিণত হয়।

দেশের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে সুফল প্রকল্পের সাইনবোর্ড দেখা যায়। যেখানে সাইট প্লান-এর বিবরণ ও লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির গাছের নাম উল্লেখ করা থাকে। কিন্তু প্রাকৃতিক গাছ পুনরুদ্ধারের নজির খুব একটা চোখে পড়ে না। মধুপুরের এসব প্রকল্পের অনেক প্লটে আনারসের চাষ হচ্ছে। ২০২২-২৩ সালে সামাজিক বনায়নের যেসব প্লটে গাছ কাটা হয়েছে তার অধিকাংশ জায়গায় এখন আনারসের বাগান। গাছা কাটার পর এসব প্লটে খুব দ্রুত মাথা তুলে, ট্রাক্টর দিয়ে আনারস লাগানোর জন্য তৈরি করে ফেলা হয়।

বনের অন্তর্নিহিত মূল্য সম্পর্কে অজ্ঞতা বা উপেক্ষা, যথার্থ মূল্যায়ন পদ্ধতির অভাব, শিথিল বন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত পরিবেশ আইনের অভাব- এসবই বৃহদায়তনে বন উজাড়ের অন্যতম কারণ। বহু দেশেই বন উজাড় একটি চলতি সমস্যা, যার থেকে প্রাণীর অবলুপ্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, মরুকরণ এবং স্থানীয় জনপদ উচ্ছেদের মত সমস্যার জন্ম হয়। তবে যে সমস্ত দেশের মাথাপিছু মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন অন্তত ৪ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার তাদের ক্ষেত্রে বন উজাড়ের হার বৃদ্ধি রোধ হয়েছে। বন উজাড়ের মূল কারণগুলির মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি  সম্পদ ও ক্ষমতার অসম বণ্টন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জনস্ফীতি এবং নগরায়ণ ইত্যাদি অন্যতম।

তীব্র দাবদাহের মধ্যেও দেশে গাছ কাটা অব্যাহত থাকায় প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। রিটকারী পক্ষের আইনজীবী বলেন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ঢাকা শহরে যে পরিমাণ গাছপালা থাকা দরকার তা দিন দিন কমছে এবং সম্প্রতিকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, যার কারণে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

সামাজিক বনায়ন চুক্তিতে সারা দেশে লাগানো গাছগুলো কেটে ফেলার কারণে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে; যা বন্ধ না হলে বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে ও মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আবেদনে ৫টি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে-

* গাছ কাটা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে ৭ দিনের মধ্যে পরিবেশবাদী, পরিবেশবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকের সমন্বয়ে সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন, যারা প্রয়োজনে ঢাকা শহরে গাছ কাটার অনুমতি দেবেন।

* গাছ কাটা বন্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৭ দিনের মধ্যে একটি সার্কুলার জারি করে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা পরিবেশ অফিসার, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি/সেক্রেটারি এবং সিভিল সার্জনের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করবেন, যাদের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা যাবে না।

* গাছ কাটা বন্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৭ দিনের মধ্যে একটি সার্কুলার জারি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে; কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব ল্যান্ড এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর সমন্বয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করবে, যাদের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা যাবে না।

* কমিটি গঠন হওয়ার আগে পর্যন্ত সকল বিবাদী নিজ নিজ এলাকায় যাতে কোনো গাছ কাটা না হয় সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

* গাছ কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, ঢাকা শহরসহ অন্যান্য জেলা এবং উপজেলা শহরে গাছ কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০০৪ এর বিধানে গাছ লাগানোর চুক্তিভুক্ত পক্ষকে অর্থ প্রদানের বিধান সংযুক্ত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না– সে মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে,মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, পরিবেশ বিভাগ মহাপরিচালক, ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র, ঢাকা উত্তরা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বন সংরক্ষক, সড়ক মহাসড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ও বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শককে।


একুশে সংবাদ/জ.ন.প্র/জাহা

 

Link copied!