AB Bank
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ধ্বংসের দ্ধারপ্রান্তে ভাওয়াল বনভূমি


Ekushey Sangbad
হাসান কাজল
১০:৪৫ পিএম, ৮ মে, ২০২৪
ধ্বংসের দ্ধারপ্রান্তে ভাওয়াল বনভূমি

গাজীপুরের ৫৭ হাজার একর বনভূমির মধ্যে দখল হয়ে গেছে ২২ হাজার একর

ধ্বংস হয়ে গেছে ৭৮ শতাংশ বনাঞ্চল

ভাওয়াল বন রক্ষাকল্পে মামলার সংখ্যা ২৮ হাজারের কাছাকাছি


ঐতিহ্যবাহী ভাওয়ালের গজারি বন এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। দ্রুতগতিতে বেদখল হচ্ছে গাজীপুরের ভাওয়াল গড়ের বনভূমি। এ জেলায় ৫৭ হাজার একর বনভূমির মধ্যে দখল হয়ে গেছে প্রায় ২২ হাজার একর। প্রভাবশালীরা বন বিভাগের সদস্যদের সহায়তায় দখল উৎসবে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা বলেন, এক সময় এই বনে বাঘ, হরিণ, শুকর, বনমোরগ, ময়ুরসহ অনেক রকম বন্যপ্রাণী দেখা যেত। দুই যুগ আগেও গাজীপুরের শালবনে সজারু, খরগোশ, বনমোরগ, বেজি, বিভিন্ন প্রজাতির বানর ও বুনো শূকরসহ নানা ধরণের প্রাণীর বিচরণ ছিল। বনউজাড় হওয়ার পাশাপাশি বিলুপ্ত হয়েছে এসব প্রাণীও।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, একশ্রেণির বন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় সংঘবদ্ধ বনদস্যুরা অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জামাদি নিয়ে গভীর বনে অবস্থান করে। দিনের পর দিন তারা শত শত একর বন উজাড় করে কোটি কোটি টাকার বৃক্ষসম্পদ লুটে নেয়। বনদস্যুদের বেপরোয়া লুটপাট শেষ হতেই বৃক্ষহীন বনভূমি জবর দখলে তৎপর হয় ভূমিদস্যুরা। বহুমূল্যের বনভূমি জবর দখলেও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা সবরকম সহায়তা দিয়ে তারা চাহিদামাফিক অর্থবিত্ত হাতিয়ে নেন।
গত দুই দশক যাবত এভাবেই বন লুটেরা, ভূমি দখলবাজ ও বন কর্তাদের এমন সমঝোতার মাধ্যমেই ভাওয়ালে বেহাত হয়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ। ধারাবাহিক এ লুটপাট কান্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদী সচেতন মহল।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের চিবা ইউনিভার্সিটি ও টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন সায়েন্স এর যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, 

গাজীপুরে বন বিভাগের মোট জায়গার পরিমাণ ৬৬ হাজার ৮০০ একর। দশ বছর আগেও গাজীপুর জেলার মোট জমির ১৪ শতাংশই ছিল বনাঞ্চল। এখন তা কমে ৩ শতাংশের নিচে এসে ঠেকেছে। প্রায় ৭৮ শতাংশ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে। সরকারি ও বেসরকারি একাধিক সংস্থার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্প গ্রুপসহ ছোট বড় মিলিয়ে ১৩ হাজার দখলবাজ ইতিমধ্যেই ভাওয়ালের অন্তত ১৫ হাজার একর বনভূমি পুরোপুরি জবর দখল করে নিয়েছে। দখলবাজদের হটানোসহ ভাওয়াল বন রক্ষাকল্পে এ পর্যন্ত দায়ের করা মামলার সংখ্যা ২৮ হাজারের কাছাকাছি। তবে বাস্তবিক অর্থে দেখা যায় শুধু মামলা হয় আর তা চলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে বন উজাড় হলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। ইদানিং বন কর্মকর্তারা রীতিমত এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে বনজ সম্পদ লুটপাট ও বনভূমি দখলবাজির অভিনব পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন। এজেন্টরা মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে ক্রেতাদের চাহিদামাফিক জায়গা জমি, গাছপালা বুঝিয়ে দেন এবং তাদের থেকে আদায়কৃত টাকা বন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন বিট এলাকায় তৎপর তিন শতাধিক দালালের সন্ধান মিলেছে। সাংবাদিক পরিচয়ধারী একশ্রেণীর প্রতারক, চিহ্নিত দালাল, স্থানীয় পর্যায়ের মাস্তান, সরকার দলীয় নেতাসহ ‘কথিত এজেন্ট’দেরকে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে উঠতে দেখা যায়। বন কর্মকর্তাদের দ্বারা অবৈধভাবে নিযুক্ত এজেন্টচক্রের অপরাধ অপকর্ম, যথেচ্ছা হয়রানির মাধ্যমে নানা স্বার্থসিদ্ধিসহ বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

১৯৮২ সালে ভাওয়াল অরণ্যকে ‘জাতীয় উদ্যান’ ঘোষণার পরেও সেখানে দ্বৈত ব্যবস্থাপনার জটিলতায় বন ও প্রাণবৈচিত্র্য আরো বেশি হুমকির মুখে পড়ে। বনের ভেতর সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে কাটা হয়েছে বিপুলসংখ্যক গাছপালা। এছাড়া বিদেশি সহায়তাপুষ্ট সামাজিক বনায়ন সংক্রান্ত নানা প্রকল্পও শালবনকে বিপন্নতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। অর্থকরী বৃক্ষ লাগানোর নামে ইউক্যালিপটাস ও রাবার গাছে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে অনেক এলাকা। বনের আরো এলাকা চলে গেছে কলা, আনারস, পেপে চাষের আওতায়।

একসময়ের জমিদারি স্বত্ব এ বনাঞ্চল সরকারের অনুকুলে নেয়ার পর থেকেই বন সম্পদ ও বনভূমি কেবলই ধ্বংসপ্রক্রিয়া শুরু হয়। বিলুপ্ত হতে শুরু হয় প্রাণবৈচিত্র্য, পরিবেশ প্রতিবেশও বিপন্ন হয়ে পড়ে। বনদস্যুদের বেপরোয়া বৃক্ষ নিধন, বন উজাড়, প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বাধাহীন দখলবাজি, গাছপালা নিশ্চিহ্ন করে শত শত শিল্প কারখানা স্থাপন, উন্নয়ন প্রকল্প, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাসহ সামাজিক বনায়নের নামে ভাওয়ালের শাল গজারির মোহনীয় অরণ্যকে ধ্বংস করা হয়েছে।

রেকর্ডপত্রে থাকা ৬৬ হাজার একর বনাঞ্চলের কোথাও এখন গহীণ ও ঘন বনের কোনো অস্তিত্ব নেই। বিশাল বিস্তৃত প্রান্তরে দুই চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ নিঃসঙ্গভাবে দাঁড়ানো দেখতে পাওয়া যায়। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেষা উভয়পাশে অপরিপক্ক কিছু শাল গজারির চারা সারা বছরই দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু দুই-তিন একর ভেতরে ঢুকলেই বৃক্ষশূণ্য বিরানভূমি চোখে পড়ে। এ বনাঞ্চলে মাইলের পর মাইল হেটেও ২০/২৫ বছরের পুরনো কোনো গাছ পাওয়া যায় না।

১৯৫০ সালে প্রজাস্বত্ব আইনে বনটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় নেয়া হয়। বনাঞ্চল হিসেবে তা দেখাশুনার দায়িত্ব চলে যায় বন বিভাগের উপর। এরপর দীর্ঘ ৭৩ বছর পরও গাজীপুর জেলা প্রশাসন এ বনভূমির ব্যবস্থাপনা আনুষ্ঠানিকভাবে বন বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে বনভূমি ব্যক্তিমালিকানায় বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি ভূমি দপ্তরের মাধ্যমে শত শত দখলদারের নামেই নথিভুক্ত হয়েছে বনভূমি। ঢাকার ফুসফুস হিসেবে পরিচিত ভাওয়ালের বনভূমি এখন পুরোপুরি ধ্বংসের দ্ধারপ্রান্তে।

শিল্প কারখানা, বসত বাড়ি, দোকান, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বাগানবাড়ির নামে দখল করা হয়েছে এই বনের হাজার হাজার একর জায়গা। দখলদারের তালিকায় রয়েছে রাজনৈতিক নেতা, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে শিল্প মালিক ও প্রভাবশালীরা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি জবরদখল করছে।

স্থানীয়রা বলেন, 

এখন যে যেভাবে পারছে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে এবং বন তো এখন বিলুপ্ত। অভিযোগ রয়েছে, শিল্পপতিরা বনের ভিতরে কিছু জমি ক্রয় করে পরবর্তী সময় বনের জায়গাও দখল করে নিচ্ছে।

রাজধানী ও আশপাশে নগরায়ণের ফলে যেভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে ঠিক সে ভাবেই দখল হয়ে যাচ্ছে ভাওয়ালের বন। যে কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান লড়াই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

পরিবেশবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিবের মতে, এই বনগুলোর মালিকানা ও তার রক্ষণাবেক্ষণে বন বিভাগের চরম ব্যর্থতা লক্ষ করা যায়। ভাওয়াল রাজার সম্পদ এবং শালবনের সীমা রেখা নিয়ে বন বিভাগের কোনও সুনির্দিষ্ট দলিল নেই। এঅবস্থা বিদ্যমান থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বনবিভাগের অধিকাংশ জায়গা দখলদারদের কবলে চলে যাবে।

গাজীপুর জেলার ৬৬ হাজার ৮০০ একর বনভূমির মধ্যে ১২ হাজার একরই বেদখলে। বনভূমি দখল করে সেখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা। অবৈধ দখলে থাকা এ ভূমি দ্রুত উদ্ধারের সুপারিশ করেছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠক শেষে মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন,

যারা সরকারি জায়গা দখল করেছে তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আগামী বৈঠকে দিতে বলা হয়েছে। এসব দখলকারীর নাম প্রকাশ করা দরকার। নামগুলো প্রকাশ পেলে অন্তত দখলকারীদের কিছুটা শাস্তি হবে। ‍‍`গত ১৬তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা গাজীপুর বনভূমির বেদখল ভূমির তালিকা চেয়েছিলাম, আজ সেই দখলকারীদের কিছু তালিকা পেয়েছি। এর মধ্যে ৫৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে।‍‍`

দখলদারদের মধ্যে রয়েছে- প্যানাস অটোক্রিয়েশন লিমিটেড, ম্যাগডোনাল বাংলাদেশ, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, এন এ জেড বাংলাদেশ, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েস, বিসিডিএস (ব্রাক), বেন্টলি স্যুয়েটার, গিভেন্সি এক্সেসরিজ গার্মেন্টস, পারটেক্স ডেনিম, ওয়ান ডেনিম ওয়ান স্পিনিং মিল, এডি আই একোয়া, এম আই ইয়ার্ন ডাইং, নিটল টাটা গ্রুপের গাড়ি পার্কিং, করীফবাড়ী খামার ও রেস্ট হাউজ, আমবার কটন মিলস, পারটেক্স হোল্ডিং, ইপিলিয়ন স্টাইল, এটলাস ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, বেন ফিক্রস্টিল বিল্ডিং ডেভেলপমেন্ট, এবি সিদ্দিক পলিমার, এসএম নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ, বিজি কালেকশন, নূর পোল্ট্রি কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ মেইজপ্রোডাক্ট, ইভন্স টেক্স, তিতাস স্কিনিং, বেঙ্গল গার্মেন্টস, মালা পোল্ট্রি ফার্ম, মাজকাত পোল্ট্রি, টিএস ট্রান্সফরমার, ন্যাশনাল ফিড, মডার্ন কিড, লিথি গ্রুপ, প্যারাগন পোল্ট্রি, স্ক্রিন গ্রাফ, গর্ডন স্টিল মিলস, মোশারফ কম্পোজিট, প্যাকলাইন লিমিটেড, নিসর্গ পিকনিক স্পট, আর্টিসান সিরামিক, সজনী ফিল্ম সিটি, বিটি লিমিডেট, মিলেনিয়াম স্টিল মিলস, কুইন্স পোল্ট্রি ফার্ম, অমনী এগ্রো, ঢাকা ফিসারিজ, রেডিয়াম এক্সেসরিজ, নির্জনা এ্যাপারেলস, গোলাম কিবরিয়া মৎস্য খামার, ইনডেক্স কনস্ট্রাকশন, এনএজেড বাংলাদেশ, সাহাবা ইয়ার্ন, এটিআই সিরামিক, গিভেন্সি ডেনিমস, খোরশেদ আলম অ্যাগ্রো, বেঙ্গল হারিকেন ডাইং, নেসলে বাংলাদেশ, গ্রীনটেক রিসোর্স ও আদি এগ্রো ফার্ম।

বনবিভাগ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে প্রকাশ, ঢাকা বন বিভাগের পক্ষ থেকে ৬৭ দফায় মোট ৬ হাজার ১২৮ দশমিক ১৯ একর জবর দখলকৃত সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনে উচ্ছেদ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৭ এপ্রিল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭৫ কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

একটি বিশেষ সূত্রে প্রকাশ,

 ভাওয়াল গড়ের দুটি রেঞ্জের অধীনে প্রায় ৩০ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। প্রভাবশালী, শিল্প মালিক, খামার মালিক, রিসোর্ট মালিক, প্রভাবশালী ব্যক্তি, শ্রমিক, দিনমজুরদের অবৈধ দখলে আছে শত শত একর বনভূমি। প্রতিটি বিটে বনের জমিতে রয়েছে হাজার হাজার বসতবাড়ি ও দোকান। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্প কারখানার দখলেওূ রয়েছে শত শত একর বনভূমি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গাজীপুরের সরকারি বনাঞ্চল এক শ্রেণির বনদস্যুরা দখল করে অবৈধভাবে নানা স্থাপনা, কলকারখানা গড়ে তুলছে। এতে একদিকে বনভূমি উজার হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এসব দখলে বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। গাজীপুর জেলায় জবর দখলকারীরা বন অধিদপ্তরের ঢাকা বনবিভাগ ও বন্যপ্রাণী বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন ৬ হাজার ৮৬ দশমিক ৮৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি ইতিমধ্যেদখলকৃত এসব জায়গায় কলকারখানা, দোকানপাট, কটেজ, রিসোর্ট, ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। বনবিভাগ ৬৭ দফায় মোট ৬ হাজার ১২৮ দশমিক ১৯ একর সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনে উচ্ছেদ প্রস্তাব প্রেরণ করলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা তারা নেয়নি। ফলে জবর দখলকারীরা প্রতিনিয়ত বন উজাড় বৃদ্ধি করছে। এতে গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী বনাঞ্চল উজাড়, জীববৈচিত্র্য বিলীন হচ্ছে, পাশাপাশি জীবন সংকটে রয়েছে উদ্ভিদ, প্রাণী ও অনুজীব জগত। এ ছাড়াও নষ্ট হচ্ছে এ অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য, ঘটছে জলবায়ূর পরিবর্তন।


একুশে সংবাদ/হ.ক.প্র/জাহা 

Link copied!