বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উত্তরবঙ্গের সার্বিক চেহারা পাল্টে দিতে বেশি সময় লাগবে না—পাঁচ বছরই যথেষ্ট। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা সদরের চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই উত্তরাঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। এ অঞ্চল দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আজ বক্তৃতা দিতে আসিনি, সাক্ষী দিতে এসেছি। আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি—উত্তরবঙ্গের ভাগ্য বদলাতে পাঁচ বছরই যথেষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী উত্তরাঞ্চলে বেকারত্ব দেখতে চায় না। প্রতিটি মানুষের জন্য মর্যাদাসম্পন্ন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। যুবসমাজকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দায়িত্ব পেলে প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। পঞ্চগড়েও একটি আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ উদ্ধার করেই এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
তিনি জানান, উত্তরবঙ্গকে শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের। পঞ্চগড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের কোনো বিশেষ কার্ড নেই, জনগণই আমাদের শক্তি।” অতীতে দেশব্যাপী আন্দোলনে ভারসাম্যহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ—সবখানে একই আওয়াজ শোনা যাবে।
তিনি আরও বলেন, সংকটকালে দেশবাসীকে ফেলে জামায়াত কখনো পালিয়ে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও যাবে না। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যেন পুরোনো দুর্বৃত্তরা নতুন রূপে ফিরে আসতে না পারে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ ১০ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

