ঢাকা সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

তৃণমূল থেকে কেন্দ্র: ত্যাগীদের মূল্যায়ন আ’লীগের বড় চ্যালেঞ্জ


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৪:০৩ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
তৃণমূল থেকে কেন্দ্র: ত্যাগীদের মূল্যায়ন আ’লীগের বড় চ্যালেঞ্জ

 দীর্ঘ ১ যুগেরও বেশি ক্ষমতায় দেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই দেশের বড় বড় আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তিনি বর্তমান বাংলাদেশের সরকার প্রধান। একটানা ক্ষমতায় থাকার কারণে অনুপ্রবেশ, হাইব্রিডদের জয়জয়কারে বঞ্চিত দুঃসময়ের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাকর্মীরা। মান-অভিমান নিরসন করে পদ-পদবিতে ভূষিত করাই এখন আওয়ামী লীগের বড় চ্যালেঞ্জ।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে নৌকা প্রতিকী দলটি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আবারো সরকার গঠন করে। একাদশ নির্বাচনের সময়কাল ঘনিয়ে ২০২৩ সালের শেষের দিকে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দ্বাদশ নির্বাচনে দলটি পুনরায় বিজয়ী হতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক কর্মকান্ড শুরু করেছে। এছাড়াও সামনে ২২ তম জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন সংগঠনটি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বৃহস্পতিবার ( ৯ সেপ্টম্বর কার্যনির্বাহী সভা ও শনিবার ১১ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন বোর্ড সভা ) দলের কার্যনির্বাহী এবং স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড সভায় দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের দিকনির্দেশনা দেন সংগঠনটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে, নেতৃত্ব দেন ৫ বছর । আবারো ২০০১ সালের নির্বাচনে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০০৫ সালে বিএনপি দলটি নির্বাচন ছাড়াই সরকার গঠন করে কয়েকবছর নেতৃত্ব দিলেও তীব্র আন্দোলনের মূখে পড়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে চলে আসে নেতৃত্ব। শুরু হয় জরুরি আইন এবং নানা ধরনের অভিযানসহ ধরপাকড়। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেন।

দশম ও একাদশ নির্বাচনেও ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এই দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষমতায় থাকার কারণে সংগঠনে প্রবেশ করেছে হাইব্রিড যারা একসময়ে নৌকার কঠ্রোর বিরোধীতা করেছিলেন। দলটির দুঃসময় ১৯৯১ থেকে ২০০১, ২০০৪, ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮ ও ২০০৯ সালের রাজপথের বলিষ্ঠ নেতৃত্বাধীন, যাদের তীব্র আন্দোলনে ক্ষমতার আসনে বসেন আওয়ামী লীগ সেই নেতাকর্মীদের পদ-পদবি থেকে বঞ্চিত করে হাইব্রিডদের জায়গা করে দেয় বলেও দাবি করেন সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতা।

বঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের দাবি, জনপ্রতিনিধিরাই এসকল কাজগুলো বেশি করছে। বিএনপি-জামায়াতের ব্যবসায়ী ও অর্থ সম্পদশালীদের টাকার বিনিময়ে পদ-পদবি দিয়েছেন ও কাছের লোকজন, স্বজনপ্রীতিসহ আত্বীয়করণ এবং একক আধিপত্য বিস্তার, নিজ স্বার্থ উদ্ধারের জন্যই সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত। আর এ কারণেই দলের মধ্যে এখন দ্ধন্ধ-কোন্দল। গ্রুপিং- লবিং, বহিষ্কার, সংঘর্ষ, হামলা-মামলা দিনের পর দিন লেগেই আছে। আর এ দ্ধন্ধগুলো সৃষ্টির পথে নেতৃত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রভাবশালী মহলসহ  জেলা-উপজেলা পর্যায়ের গুটি কয়েকজন নেতারা।

আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের দাবি, বার বার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সমস্যা সমাধান করতে এবং দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাড়াঁতেও সকল নেতাকর্মীদের বলা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের মতামত, বিএনপি-জামায়াতকে মোকাবিলার চেয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন বড় সমস্যায় জড়িত। মাঝে মধ্যে উকিঁ দিলেও বিএনপি মাঠে-ঘাটে কোথাও নেই বলেও উল্লেখ করেন।

জেলা-উপজেলার সম্মেলনকে ঘিরে নানা মতামত ও দ্বিমতে সয়লাব। বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসলে সে কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে কোন্দল নিরসন ও সংগঠন ঢেলে সাজাতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, পদবাণিজ্য এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। কেউ কেউ আওয়ামী লীগের দেওয়া চেয়ারে বসে পদবাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকাও আয় করছেন। জেলা-উপজেলা ও মহানগরে যেখানে সমস্যা রয়েছে সেখানের নেতাদের সমস্যা সমাধানে কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু জায়গায় আমাদের সমস্যা আছে। সেগুলো নিরসনের জন্য কাজ চলমান রয়েছে।

গত ৯ ও ১১ সেপ্টম্বর শনিবার স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড ও সংসদীয় বোর্ডের যৌথ সভায় নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়ে বলেন, করোনা যেহেতু কমেছে আমি চাই আপনারা সাংগঠনিক কাজ শুরু করুন। সামনে নির্বাচন তাই এখন থেকেই কাজ শুরু করেন। কোন্দল নিরসন করুন। আপনারা যখন সম্মেলনসহ সাংগঠনিক কাজে বিভিন্ন এলাকায় যাবেন তখন দলীয় নেতৃত্ব এমন লোকের হাতে তুলে দেবেন যারা দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, দলের জন্য কাজ করে এবং দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।