ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

সন্তানের জন্য যারা ভাবেন, শেষ পর্যন্ত পড়ুন!


Ekushey Sangbad
জিয়াদুর রহমান জিহাদ
০২:১২ পিএম, ১০ মে, ২০২২
সন্তানের জন্য যারা ভাবেন, শেষ পর্যন্ত পড়ুন!

 গত ১০ দিনে ৯৭ জন মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তার মধ্যে ৫১ জনেরই বয়স ১৫-২০ বছরের মধ্যে। এ সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি হওয়াই অনুমিত। কারণ ঈদের ছুটির এ চারদিনে শুধু ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালেই বাইক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬০ জন। আর মারাত্মক এক্সিডেন্ট করে পঙ্গু বা প্রায়-পঙ্গু হয়েছেন কতোজন তা হিসেব করা প্রায় অসাধ্য কর্মযজ্ঞ হয়ে যাবে।

স্কুল-পড়ুয়া ছেলে যখন মোটর বাইক এক্সিডেণ্টে ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে আসে, অভিভাবকদের দিকে চোখ বড় করে তাকাই। কিন্তু সেই অভিভাবক যখন বলেন, "কী করব স্যার, বলেন, কিনে দিতে চাইনি। টানা ৩ দিন কিচ্ছু মুখে দেয় না। শেষে বাধ্য হয়ে কিনে দিলাম।" তখন আসলে আর কিছু বলার থাকে না। উনাদেরই বা কী দোষ। সন্তানের না-খাওয়া শুকনো মুখ কোনো মা-বাবাই সহ্য করতে পারেন না। আর বাচ্চারাও জেনে গেছে কীভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে হয়; কোন জায়গায় আঘাত করলে মা-বাবাকে পর্যুদস্ত করা যায়।

অধিকাংশ মোটর বাইক চালকেরা কী যে বেপরোয়াভাবে রাস্তাঘাটের আইনকানুনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে যেদিক দিয়ে খুশি সেদিক দিয়ে এটি ঢুকিয়ে দেন! চালানো দেখলেই মনে হয় ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। কয়েকটা মিনিট বাঁচানোর জন্যে এতো ঝুঁকি তারা কেন নিতে যান? এই কয়েকটা মিনিট বাঁচিয়ে কী এমন জগত উল্টিয়ে ফেলছেন তারা?

তারা কি জানেন না কী অধীর আগ্রহ আর দুশ্চিন্তায় তার স্ত্রী-সন্তান-মা-বাবা তার সুস্থভাবে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকেন? তাদের উদ্বিগ্ন মুখের কথা স্মরণ হলেই তো প্রচণ্ড সাবধানী ও সচেতন হয়ে যাওয়া প্রয়োজন। অধুনা সংযুক্ত হয়েছে নতুন এক কালচার-- 'বাইক রেইস' বোধহয় এর নাম। বিশেষত ইদানিং গ্যাং কালচারটি যেভাবে প্রবলবেগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তাদের দ্বারা এটা বহুলভাবে চর্চিত। এটা একটা ভয়ানক ব্যাপার।

আমার একটা সাজেশান আছে। যারা মোটর বাইক চালাবে তাদের যেন একদিন পঙ্গু হাসপাতাল, নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল কিংবা যেকোনো মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি/অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে একটু ঘুরিয়ে আনা হয়। তারা একটু দেখুক কী অকল্পনীয় কষ্টে আছে তারা, কী বীভৎস দিবস-রজনী কাটায় তারা, রাত-দিন এক করে কী নির্মম পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাদের স্বজনদের, ভিটেমাটি সব বিক্রি করে পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে তবুও কুলোতে পারছে না।

আই সি ইউতে যারা ভর্তি থাকে কী অসম্ভব রকমের ব্যয় তাদের বাবা-মাকে করতে হচ্ছে আর সন্তানের এই অবস্থায় কী ভয়ঙ্কর মর্মযাতনায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে তা এই পরিস্থিতি যারা ফেইস করেছে বা প্রত্যক্ষভাবে দেখেছে তাদের ছাড়া অন্যদের বোঝা দুরূহ। তারা তো শুধু এক্সিডেন্ট করেই খালাস।

আচ্ছা শুধু মোটর বাইক কেন-- ট্রাক, টেম্পু, নসিমনসহ যাবতীয় যানবাহনের ড্রাইভারদের লাইসেন্সিং-এর একটা পার্ট হিসেবে হসপিটাল ভিজিট কি থাকতে পারে না? একটা ওরিয়েন্টেশান ক্লাস কি তাদের জন্যে থাকতে পারে না যেখানে তাদের এসব বিষয়ে সাবধান করা হবে, যারা রোড ট্রাফিক এক্সিডেণ্টের করুণ ভিক্টিম তারা তাদের দুঃসহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তাদের সতর্ক করে দেবে?

এটি লেখার পর আমার এক পরিচিত আপু তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন। মেরিল্যান্ডে ড্রাইভিং স্কুলের প্রথম দিন ৩ ঘন্টা বসে বসে তাকে এক্সিডেন্টের ভিডিয়ো দেখতে হয়েছে। এর সাথে এক্সিডেন্টে হারানো টিনএজ সন্তানের বাবা-মায়ের সাক্ষাৎকার, এক্সিডেন্টের সময় ওরা কী করছিল তার ভিডিয়োসহ আরও অনেক ভিডিয়ো। ভিডিয়োগুলো দেখার মাধ্যমে তা মস্তিষ্কে গেঁথে যায়।