AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বন্ধ থাকা ৮ বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬:৩৭ পিএম, ৩১ মে, ২০২৬

বন্ধ থাকা ৮ বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা দেশের আটটি বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জনচাহিদা ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বিবেচনায় নিয়ে অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো ধাপে ধাপে সচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিমানবন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাই ও কারিগরি মূল্যায়নের কাজ চলছে।

বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ বিভিন্ন ধরনের যাত্রী ও কার্গো বিমান অবতরণ করতে পারবে।

প্রকল্পের আওতায় আধুনিক টার্মিনাল ভবন, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং উন্নত অবতরণ ও নেভিগেশন প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার মধ্যেও নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণের সুবিধা নিশ্চিত করতে আধুনিক আইএলএস ক্যাট-৩বি প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে।

বর্তমানে প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)কে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। প্রকল্প ব্যয় তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত বিমানবন্দরটি ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সময়ে সংস্কার কাজ হলেও যাত্রীসংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরটির টার্মিনাল ভবন, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও অন্যান্য অবকাঠামো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সুবিধা ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহেরও অভাব রয়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরটির আধুনিকায়নে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল ও নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে রানওয়ের দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানো হবে।

বগুড়া ও ঠাকুরগাঁওয়ের পাশাপাশি লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দরও পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে কোন বিমানবন্দর আগে চালু হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব বিমানবন্দর সচল হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়বে, পর্যটন ও কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারের অনুমোদন ও সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক এবং পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!