সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত শ্রমনীতি ও সংস্কার দেশের শ্রমকল্যাণ ব্যবস্থাকে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের ত্রিপক্ষীয় শ্রমনীতি শ্রমিক কল্যাণের কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধিতে তার নেওয়া উদ্যোগ পরবর্তীতে আরও বিস্তৃত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, শিকাগোর হে মার্কেটের আত্মত্যাগ বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি ওই আন্দোলনে নিহত শ্রমিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণআন্দোলন পর্যন্ত শ্রমজীবী মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় শ্রমিকরাই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও নির্মাণ খাতসহ সব ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
রাষ্ট্রপতি জানান, শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
শ্রম অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণে সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেছে।
নারী শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে সম্প্রতি মিরপুরের রূপনগরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শোক প্রকাশ করে তাদের পরিবারের সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
শেষে তিনি বলেন, শ্রমিক, মালিক ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি মানবিক ও নিরাপদ শ্রমব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। মহান মে দিবসের চেতনা ধারণ করে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

