বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, মার্চ মাসে দেশে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেগুলিতে ৬৮২ জন নিহত এবং ১,৭৯৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার(০৪ এপ্রিল) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
সংস্থার দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়কে ৬১৬টি দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ২২২, যেগিতে ২৩৭ জন নিহত ও ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা (১৬০টি) ঘটেছে, যেখানে ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম (৩০টি) দুর্ঘটনা হয়েছে, যেখানে ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন।
রেলপথে মার্চ মাসে ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, চিকিৎসক, নারী-শিশু ও বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। বিস্তারিত সংখ্যা অনুযায়ী: নিহতদের মধ্যে ৫ পুলিশ, ১ আনসার, ১ বিজিবি, ১ ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ১ চিকিৎসক, ১ বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৫০ পরিবহন চালক, ৮৪ পথচারী, ৭৪ নারী, ৮২ শিশু, ৬৭ শিক্ষার্থী, ১২ পরিবহন শ্রমিক, ১৪ শিক্ষক, ১ আইনজীবি, ৩ প্রকৌশলী এবং ৯ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৩২.৪৬% গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণে, ৩৭.৬৬% মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২১.৪২% নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭.১৪% বিবিধ কারণে, ০.৩২% চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ০.৯৭% ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।
স্থান অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ৪০.৯০% জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৩% আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২.০৭% ফিডার রোডে, ৫.৫১% ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮% চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৯৭% রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব উল্লেখ করেছেন, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশিত রিপোর্টের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ সব দুর্ঘটনার খবর সংবাদপত্রে পৌঁছায় না।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

