AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

শ্রমবাজারে সনদ জালিয়াতি রোধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫:৫১ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শ্রমবাজারে সনদ জালিয়াতি রোধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসডিএর এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা। এর আগে ২০২২ সালে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এনএসডিএ একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দেশের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এতে চাকরিদাতারা আস্থা হারালে দক্ষতা উন্নয়নের সব উদ্যোগই ব্যর্থ হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এসব অনিয়ম ও জালিয়াতি বন্ধ করতেই হবে। দেশের একটি ইতিবাচক ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চাকরিদাতারা যেন নিশ্চিন্তভাবে বলতে পারেন—বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীরা মানসম্পন্ন ও দক্ষ।

এনএসডিএ সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সনদ জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময়। তাদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই সরকারের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরও স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় আগের সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত ‘দক্ষতা ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা যাবে।

সভায় জানানো হয়, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সনদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে, সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্পখাতে শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।

এ ছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও পরিকল্পনাও সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—উদীয়মান খাতে স্কিলস গ্যাপ এনালাইসিস, সব উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএর কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (বিএনকিউএফ) আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’র মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিগুলোতে (আইএমটি) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি প্রদান নিয়েও আলোচনা হয়।

গভর্নিং বডির সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!