আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, এবার ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং প্রার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় গণনা প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বিএনসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি সচিব বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রবাসী ভোটার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যালট ব্যবহৃত হবে। ফলে দুটি ব্যালটের ভোট গণনা এবং অধিকসংখ্যক প্রার্থীর কারণে সময় বেশি লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালট গণনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, কয়েকটি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। যেমন—ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজারের বেশি, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার এবং কুমিল্লার একটি আসনে প্রায় ১৪ হাজার ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। একটি কেন্দ্রে যেখানে সাধারণত ৩ হাজার ভোটার থাকে, সেখানে পোস্টাল ব্যালটের চাপ কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় ফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৮৩টি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৬টি সংস্থা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বড় পর্যবেক্ষক দল ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থান করছে, যার সদস্যসংখ্যা বাড়তে পারে। পাশাপাশি কমনওয়েলথ ও তুরস্ক থেকেও পর্যবেক্ষক আসবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫শ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেন নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, এসব সেবা পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই। তবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮১ জনে। এর মধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ৭৬ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে। ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন এবং পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অন্য কারও কাছে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আখতার আহেদ বলেন, এনআইডি হস্তান্তরের মতো ঘটনা আচরণবিধির পরিপন্থী। এ বিষয়ে ভোটারদের সচেতন হতে হবে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ তথ্য গোপন করে প্রার্থী হলে এবং তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন যে কোনো সময় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য এবারের নির্বাচনে ১৬ হাজারের বেশি বিএনসিসি ভলান্টিয়ার দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান ইসি সচিব।
একুশে সংবাদ/ এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

