লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা আরও ১৭৫ বাংলাদেশি নাগরিক আগামীকাল রোববার দেশে ফিরছেন। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল গত ২৬ নভেম্বর ত্রিপলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম)ও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত আটক বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের অবস্থার খোঁজ নেন এবং বিভিন্ন সমস্যা শুনে সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রা অভিবাসীদের চরম ঝুঁকিতে ফেলে এবং মানবপাচারকারীদের কারণে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, “আপনারা ভাগ্যবান যে আল্লাহর রহমতে সাগর থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।”
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের দেশে ফেরাতে দূতাবাস সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ হলে ৩০ নভেম্বর আইওএম-এর সহায়তায় ১৭৫ জনকে দেশে পাঠানো সম্ভব হবে।
আটক অভিবাসীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রদূত দেশে ফিরে নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গুরুত্বারোপ করেন।
দূতাবাস জানিয়েছে, আইওএম-এর সহযোগিতায় পর্যায়ক্রমে সব আটক বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ এগিয়ে চলেছে। পরিদর্শন শেষে আটক অভিবাসীদের মধ্যে দূতাবাসের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এসময় রাষ্ট্রদূত তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি সাগর থেকে বাংলাদেশিদের উদ্ধার ও পরে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসীদের কল্যাণে দুই পক্ষের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

