ওজন কমানোর চেষ্টা কিংবা ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে অনেক নারী নিয়মিত সকালের নাশতা এড়িয়ে যান। অথচ সকালের নাশতাকেই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কারণ, সারারাত না খেয়ে থাকার পর শরীর ও মস্তিষ্ককে স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি ও শক্তির প্রয়োজন হয়। কিন্তু নিয়মিত নাশতা বাদ দিলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন।
ভারতের চিকিৎসক ডা. রোহিনী পাটিল এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে তিনি জানান, নিয়মিত সকালের নাশতা না খেলে শরীরে নানা ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এমনকি হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যও বিঘ্নিত হতে পারে।
ডা. পাটিলের মতে, নাশতা এড়িয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ প্রভাব হলো দ্রুত ক্লান্তি অনুভব করা এবং কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হওয়া।
দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত গ্লুকোজ বা শক্তি পায় না। এর ফলে সকালে অবসাদ, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগের ঘাটতি এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা
নারীদের ক্ষেত্রে নাশতা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। এতে মিষ্টি বা জাঙ্ক ফুডের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে আর এতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
হরমোনজনিত সমস্যা আরও বাড়তে পারে
ডা. রোহিনী পাটিল বলেন, যেসব নারী পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), থাইরয়েডের সমস্যা বা অনিয়মিত মাসিকের মতো হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য নিয়মিত নাশতা বাদ দেয়া আরও ক্ষতিকর হতে পারে।
তিনি জানান, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু নিয়মিত নাশতা এড়িয়ে গেলে শরীরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, যা এসব সমস্যার উপসর্গ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়
সকালের নাশতা বাদ দেয়া মানে শরীরকে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত করা। নাশতায় সাধারণত প্রোটিন, আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। যারা নিয়মিত নাশতা করেন না এবং দিনের অন্য খাবারেও ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন না, তাদের শরীরে এসব পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
তবে ডা. রোহিনী পাটিল বলেন, সবার শরীর এক রকম নয়। কিছু নারী ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনুসরণ করেও প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি গ্রহণ করতে পারেন। তাই একটাই খাদ্যাভ্যাস সবার জন্য উপযুক্ত এমনটি বলা যায় না।
তার পরামর্শ, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। সকালের নাশতা গুরুত্বপূর্ণ তাই বাদ না দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

