চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানসিক চাপ। দীর্ঘদিনের স্ট্রেস চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্রকে ব্যাহত করে, ফলে একসঙ্গে অনেক চুল ঝরে পড়ে।
এছাড়া পুষ্টির অভাবও বড় ভূমিকা রাখে। চুল মূলত প্রোটিন (কেরাটিন) দিয়ে তৈরি, তাই খাদ্যে প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ডি ও বি১২-এর ঘাটতি থাকলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ঝরে যায়।
হরমোনজনিত পরিবর্তনও চুল পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। থাইরয়েড সমস্যা বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম থাকলে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। প্রসবের পর নারীদের ক্ষেত্রেও হরমোনের পরিবর্তনের কারণে সাময়িকভাবে চুল পড়া বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া ভুল হেয়ার কেয়ার চর্চাও চুলের ক্ষতি করে। অতিরিক্ত হিট ব্যবহার, কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, ভেজা চুল শক্ত করে বাঁধা-এসব কারণে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। পরিবেশগত কারণ, যেমন ধুলাবালি ও দূষণও চুলের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
চুল পড়া কমাতে যা জরুরি
চুল পড়া কমাতে হলে প্রথমেই সুষম খাদ্য গ্রহণ জরুরি। প্রতিদিন ডিম, মাছ, শাকসবজি ও ফল খাওয়া উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। নিয়মিত তেল ম্যাসাজ চুলের গোড়া মজবুত করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। সপ্তাহে ২-৩ বার সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার এবং কন্ডিশনার প্রয়োগ করাও উপকারী।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম ও মেডিটেশন চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
তবে সমস্যা যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা মাথার নির্দিষ্ট স্থানে টাক পড়তে শুরু করে, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

