শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া সচল করা এবং শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে এর সুফল পেতে হলে সঠিক নিয়ম ও তাপমাত্রা মেনে চলা জরুরি।
যেমন- গরম বা উষ্ণ পানি পানের স্বাস্থ্যের উপকারিতা প্রাচীন চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি ও ভারতের আয়ুর্বেদসহ বিভিন্ন সামগ্রিক (হোলিস্টিক) চিকিৎসা ব্যবস্থায় হাজার বছরের পুরনো প্রচলিত ধারণা।
কিন্তু বছরের শুরুতে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ার পর এই প্রাচীন অভ্যাসটি এখন পৌঁছে গেছে বৈশ্বিক নতুন এক দর্শক শ্রেণির কাছে।
এই ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির একটি মূল বিশ্বাস হলো, শরীরজুড়ে শক্তি বা `চি` প্রবাহিত হয় এবং কোথাও এই প্রবাহ বাধাগ্রস্ত বা বিঘ্নিত হলে অসুস্থতা দেখা দেয়। এর সমর্থকরা মনে করেন, গরম পানি-যা মুখ বা গলা পুড়ে যাওয়া এড়াতে ৪০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সামান্য ঠান্ডা করা হয়; এটা পান করলে `চি` আরও শক্তিশালী হয় ও সংরক্ষিত থাকে, যা স্বাস্থ্যের উন্নতি ও দীর্ঘায়ুতে ভূমিকা রাখে।
এ প্রসঙ্গে জিপি এবং লংজেভিটি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. রোজি ব্রুকস বলেন, গরম পানি পান করা কিছু উপকার দিতে পারে। হজমে সামান্য উপকার হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও কিছুটা সাহায্য করে।
অল্প কিছু প্রমাণ রয়েছে যে গরম পানি ইসোফ্যাগাস-যা গলা থেকে পাকস্থলীর সংযোগকারী নালী-সেখানে স্পাজম শান্ত করতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু অন্যথায়, ঠান্ডা হোক বা গরম-পানি পান মানে শরীরকে হাইড্রেট রাখা।
যুক্তরাজ্যের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ড. হেলেন মেডিকেল-এর জেনারেল প্র্যাকটিশনার ও লাইফস্টাইল ফিজিশিয়ান ড. সেলিনা গ্রে বলেন, ঠান্ডা পানি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে—এমন কোনো প্রমাণও নেই।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে যে দাবিগুলো করা হয় যে গরম পানি পান করলে চর্বি পোড়ে, বিপাকক্রিয়া বাড়ে বা শরীর ডিটক্স হয়-এগুলোর কোনো প্রমাণ নেই। যদি কেউ গরম পানিকে বেশি পছন্দ করে এবং এর ফলে তারা বেশি পানি পান করে, তাহলে এটি ভালোই; কিন্তু এটি কোনো বিপাকীয় শর্টকাট নয়।
সূত্র- বিবিসি বাংলা



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

