ফল আমাদের শরীরের জন্য ভিটামিন, খনিজ আর ফাইবারের একটি প্রাকৃতিক ভাণ্ডার। ডায়াবেটিস থাকলেও ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই, যদি একটু বুঝে-শুনে খাওয়া যায়। আসল বিষয় হলো ফলের ধরন, পরিমাণ আর খাওয়ার সময়-এই তিনটায় ভারসাম্য রাখা।
সব ফল একরকম নয়। কিছু ফল রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ায়, আবার কিছু ফল দ্রুত প্রভাব ফেলে। আপেল, নাশপাতি, কমলা, বেরি জাতীয় ফল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। আর আম, কলা, আঙুর বা তরমুজ—এসব ফল খাওয়া যাবে ঠিকই, তবে পরিমাণটা হতে হবে সীমিত।
সব ফল কি এক রকম?
না। সব ফলে শর্করার পরিমাণ এক নয়। কিছু ফলে প্রাকৃতিক চিনি তুলনামূলক বেশি, আবার কিছু ফলে ফাইবার বেশি থাকায় তা ধীরে ধীরে রক্তে শর্করা বাড়ায়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও ফাইবারের পরিমাণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, পেঁপে, বেদানা ও বেরিজাতীয় ফল (যেমন স্ট্রবেরি) - এসব ফলে ফাইবার বেশি থাকে এবং রক্তে শর্করা তুলনামূলক ধীরে বাড়ে।
যেসব ফলে সতর্কতা দরকার
আম, কলা, কাঁঠাল, আঙুর ও লিচুতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি। এগুলো একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে অল্প পরিমাণে এবং নিয়মিত নয় - এই নীতি মানা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অতিরিক্ত শর্করা যেকোনো উৎস থেকেই রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।
ফলের রস কেন ভালো নয়
ফলের জুসে ফাইবার প্রায় থাকে না, কিন্তু চিনি পুরোটাই থাকে। ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই গোটা ফল খাওয়াই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো বিকল্প।
কখন এবং কীভাবে ফল খাবেন
খালি পেটে না খেয়ে খাবারের দিনের মাঝামাঝি সময় বা হালকা নাস্তা হিসেবে ফল খেলে রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা কম হয়। পরিমাণের দিকে নজর রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - এক বেলায় এক ধরনের ফলই যথেষ্ট।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল শত্রু নয়। সঠিক ফল, সঠিক পরিমাণ আর সঠিক সময় - এই তিনটি মানলে ফল ডায়েটেরই অংশ হতে পারে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

