AB Bank
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার চেয়ে বাংলাদেশে বেশি খাবার নষ্ট হয়


Ekushey Sangbad
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩:৫০ পিএম, ৩০ মার্চ, ২০২৪
যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার চেয়ে বাংলাদেশে বেশি খাবার নষ্ট হয়

বিশ্বে ২০২২ সালে বাসাবাড়ি, খাদ্য সেবা ও খুচরা পর্যায়ে মোট খাদ্যের প্রায় ১৯ শতাংশ অর্থাৎ একশ কোটি টনের বেশি খাবার অপচয় হয়েছে। আর দৈনিক ৮০ কোটি মানুষ খাবারের অভাবে না খেয়ে থাকছেন। সম্প্রতি ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স রিপোর্ট-২০২৪ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি)। এই প্রতিবেদন বলে হয়, ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশের খাদ্য অপচয়ের প্রবণতা বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর একজন ব্যক্তি গড়ে ৭৯ কেজি খাবার নষ্ট করেন। এছাড়া ২০২২ সালে যত খাবার নষ্ট হয়েছে, তার ২৮ শতাংশ নষ্ট হয়েছে রেস্তোরাঁ, ক্যান্টিন ও হোটেলের মতো খাদ্য পরিষেবা ব্যবস্থাগুলোতে। সেই সঙ্গে কসাই ও মুদি দোকানে নষ্ট হয়েছে ১২ শতাংশ খাবার। তবে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ, ৬০ শতাংশ খাবার নষ্ট হয়েছে বাসা-বাড়িতে। এর পরিমাণ ৬৩ কোটি ১০ লাখ টন।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়ার চেয়েও বাংলাদেশে খাদ্য অপচয়ের প্রবণতা বেশি ছিল। জাতিসংঘের হিসাবে, বাসা-বাড়িতে একজন ব্যক্তি বছরে গড়ে ভারতে ৫৫, যুক্তরাজ্যে ৭৬, যুক্তরাষ্ট্রে ৭৩ এবং রাশিয়ায় ৩৩ কেজি খাবার অপচয় করেছেন। তবে এ হিসেবে খাবারের সবচেয়ে বেশি অপচয় হয়েছে মালদ্বীপে। সেখানে হয়েছে ২০৭ কেজি আর সবচেয়ে কম হয়েছে মঙ্গোলিয়ায় যার পরিমাণ ছিল ১৮ কেজি।

গবেষকদের দাবি বাংলাদেশে একেবারে উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোতে বেশি খাদ্য নষ্ট বা অপচয় হয়। ইউনেপের আগের প্রতিবেদনের সঙ্গে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগের চেয়ে ২০২২ সালে খাদ্য অপচয় বা খাদ্য উপাদান কিংবা তৈরি খাদ্য নষ্ট করার প্রবণতা বেড়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় খাদ্য অপচয় নিয়ে ‘এস্টিমেশন অফ ওভারঅল ফুড লসেস অ্যান্ড ওয়েস্ট এট অল লেভেলস অফ দা ফুড চেইন’ শীর্ষক গবেষণা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান। তার মতে, দেশে একেবারে উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোতে বেশি খাদ্য অপচয় হয়। এছাড়াও কমিউনিটি সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫-১৩ শতাংশ খাবার নষ্ট বা অপচয় হয়।

তিনি বলেন, ‘বাসাবাড়ি ও হোটেল রেস্টুরেন্টে অনেক খাবার নষ্ট হয়। আমরা গবেষণা পেয়েছি যে উচ্চ আয়ের বাসাগুলোতে সপ্তাহে একজন মানুষ ২ কেজির বেশি খাবার অপচয় করে থাকে।’

তবে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে মানহীন বা নষ্ট খাবারের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকলেও খাদ্য অপচয় দেখার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, ‘আমরা ভোক্তা পর্যায়ে কেউ নষ্ট বা মানোত্তীর্ণ খাবার দিলে ব্যবস্থা নিতে পারি। কিন্তু কেউ খাদ্য নষ্ট করলে বা অপচয় করলে আমাদের কিছু করার আছে বলে এখনো জানা নেই।’ এই অবস্থায় খাদ্য অপচয় রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফুড লস বা ফুড ওয়েস্ট আসলে কী? গবেষকরা বলছেন, সাধারণভাবে খাবার সম্পূর্ণ না খেয়ে অপচয়টাই হলো ফুড ওয়েস্ট। আর ফুড লস হলো উৎপাদন বা আহরণের পর গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত না পৌঁছানো। সেটাও খাদ্য অপচয়ের মধ্যেই পরে। আবার যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে কোনো খাবার যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেটি খাদ্য অপচয়ের আওতায় আসবে। এর মধ্যে ফুড লস হয় মাঠ পর্যায় থেকে গ্রাহকের হাতে আসা পর্যন্ত। আর ফুড ওয়েস্ট বা অপচয় হয় গ্রাহকের হাতে আসার পর।

গবেষকরা বলছেন, ছোট মাছের ক্ষেত্রে বেশি ফুড লস হয়ে থাকে। আহরণের পর থেকে গ্রাহক পর্যায়ে আসা পর্যন্ত সময়ে ছোট মাছের ক্ষেত্রে কেজি প্রতি ২৩ শতাংশ ‌‘লস’ হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে তিন ভাগের এক ভাগ মাছ নানা কারণে নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশে কমিউনিটি সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫ থেকে ১৩ শতাংশ খাবার নষ্ট বা অপচয় হয়। বাসা-বাড়ি এবং হোটেল রেস্টুরেন্টে অনেক খাবার নষ্ট হয়। উচ্চ আয়ের বাসাগুলোতে সপ্তাহে একজন মানুষ দুই কেজির বেশি খাবার অপচয় করে থাকে।

রেস্টুরেন্টেও সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত খাদ্য অপচয় হয়ে থাকে। সে তুলনায় বি ক্যাটাগরির রেস্তোরায় কিছুটা কম নষ্ট হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্ডার দেওয়া এবং সব খাবার একটু চেখে দেখার প্রবণতাই রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবার অপচয়ের বড় কারণ বলে মনে করা হয়।

মূলত এসব কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে খাদ্য অপচয় বেশি বলে ধারণা বাংলাদেশের গবেষকদের। তারা মনে করেন রেস্তোরাঁ বা কমিউনিটি সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশি নজরদারি বা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় খাদ্য অপচয় প্রতিরোধে উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের চেয়ে ভালো করছে।

অপচয় দেখার কেউ নেই

বাংলাদেশে খাদ্য অপচয় বিষয়টি দেখার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। বাংলাদেশে বছরে প্রায় এক কোটি টনের বেশি খাবার অপচয় হয় এবং বছরে জনপ্রতি ৬৫ কেজি খাবার কখনো খাওয়াই হয় না। খাদ্য অপচয়ের চেয়ে খাদ্য নষ্ট হওয়ার হার অনেক বেশি। যত খাদ্য নষ্ট হয় এর ৮৭ শতাংশই ঘটে উৎপাদন, মজুত, প্রক্রিয়া, বিতরণের সময় ও বাজারে।

বাংলাদেশে যত খাবার অপচয় হয় তার ৬১ শতাংশই বাসা-বাড়িতে, ২৬ শতাংশ রেস্তোরাঁয় আর বাকী খাবার অপচয় হয় খাদ্যশস্য যেখানে বিক্রি হয় অর্থাৎ বাজার কিংবা বিভিন্ন ধরণের দোকানে।

তবে গবেষকরা বলছেন, বাসা ও রেস্তোরাঁয় খাবার অপচয়ের মূল কারণ হলো- দরকারের চেয়ে বেশি রান্না করা, অতিরিক্ত খাবার কিনে তা ব্যবহার না করা এবং খাবার সংরক্ষণ যথাযথভাবে না করা।

সূত্র: বিবিসি


একুশে সংবাদ/ক.ক.প্র/জাহা

 

 

Link copied!