দেশের স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, গত অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ বরাদ্দ ছিল, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার সেই বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতে সরকার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট গড়ে তোলা হবে।
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এসব স্বাস্থ্যকর্মী নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে রক্তচাপ ও ব্লাড সুগার পরীক্ষা, গর্ভবতী নারীদের পরামর্শ দেওয়া, শিশুদের শারীরিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ এবং টিকাদান কার্যক্রম তদারকি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি নাগরিককে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা সম্ভব না হলে রোগীদের উপজেলা বা বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হবে।
দেশে হাম রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নিয়মিত ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমানে চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

