দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশু মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অন্তত ১০টি জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মার্চ মাসেই এ রোগে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের ঘাটতি, অপুষ্টি, মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কৃমিনাশক গ্রহণ না করার মতো কারণগুলো সংক্রমণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
যেভাবে ছড়ায় হাম
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসে ছড়িয়ে থাকা ভাইরাস কণাও কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে, ফলে দূষিত পরিবেশ থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তি লক্ষণ প্রকাশের আগেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। সাধারণত ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে চার দিন পর পর্যন্ত রোগটি সংক্রামক থাকে।
হামের প্রধান লক্ষণ
হামের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়। শুরুতে জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়া দেখা যায়। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
শুকনো কাশি ও সর্দি
গলা ব্যথা বা স্বর ভাঙা
চোখ লাল ও পানি পড়া
আলোতে অস্বস্তি
শরীরে ব্যথা ও ক্লান্তি
মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কোপলিক স্পট)
এর কয়েক দিন পর ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা সাধারণত মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ৫ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হতে পারে।
সতর্কতা ও প্রতিরোধ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি আক্রান্তদের আলাদা রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হলে জটিলতা কমানো সম্ভব। বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ার প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

