চলতি বছরে দেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নওগাঁ জেলায় এক নারী এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আইইডিসিআরের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, ওই নারী নিপা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরীক্ষার পর তার শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। তিনি জানান, গত ২৮ জানুয়ারি ওই নারীর মৃত্যু হয় এবং এটি চলতি বছরে নিপা ভাইরাসে দেশে প্রথম মৃত্যু।
আইইডিসিআর সূত্র জানায়, দেশে সর্বশেষ নিপা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছিল গত বছরের আগস্ট মাসে। ২০২৫ সালে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানান, নিপা ভাইরাস মূলত ফলখেকো বাদুড় ও শূকরের মাধ্যমে মানবদেহে সংক্রমিত হয়। এসব প্রাণীর লালা বা মলমূত্র দ্বারা দূষিত ফল কিংবা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। গাছ থেকে পড়ে থাকা আধা খাওয়া ফল না খাওয়া এবং সব ধরনের ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মানবদেহে প্রবেশের পর নিপা ভাইরাস সাধারণত চার থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত সুপ্ত থাকতে পারে। সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, বমি ভাব, বমি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে খিঁচুনি ও স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিপা ভাইরাসকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগ হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ, এ ভাইরাসের এখনো কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ, যা কোভিড-১৯-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

