টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে সতর্কসীমা অতিক্রম বা স্পর্শ করেছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক দিনে কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও হরিপুর পয়েন্ট, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম স্টেশন, সুরমা নদীর ছাতক, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশনে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার প্রভাব দেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে পড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয়ে আজও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী চার দিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। ৩ থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও আগামী কয়েক দিনে আবার বাড়তে পারে। তবে আপাতত এই নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট ও সুনামগঞ্জে এসব নদী সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নিচু এলাকার কিছু অংশে সাময়িক জলাবদ্ধতা বা প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী ও যাদুকাটা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন এসব নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

