বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এখন বিদেশি বিনিয়োগের তুলনায় দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নই প্রধান অগ্রাধিকার।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিডা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রবাহ ও বিনিয়োগ সহজীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য জানান বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা, চলমান সংঘাত, জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন। এ অবস্থায় দেশের ভেতরের বিনিয়োগ শক্তিশালী করাই এখন মূল লক্ষ্য।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ আরও বলেন, সরকার ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বন্ধ শিল্পগুলো পুনরায় ব্যবহার ও বেসরকারীকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগ সম্মেলনের পর দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অনেক বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময় লাগছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
জ্বালানি সংকটকে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শিল্পখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, “জ্বালানি ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্ভব নয়। তবে এর সমাধান তাৎক্ষণিক নয়, এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।”
চীনা বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিনিয়োগ উৎসে পরিণত হয়েছে। তাই চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিডা প্রধান আরও জানান, নতুন সরকারের প্রথম দুই বছর বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়, তাই এ সময়কে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

