ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

ই-কমার্স বন্ধ নয়, আনতে হবে আইনী কাঠামোতে


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩:১০ পিএম, ৫ অক্টোবর, ২০২১
ই-কমার্স বন্ধ নয়, আনতে হবে আইনী কাঠামোতে

লোভনীয় অফার আর চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে পণ্য কিনে অল্প দিনে বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখে  হুমড়ি খেয়ে পড়লেন লাখো গ্রাহক। কিন্তু সেই স্বপ্নই যেন পরিণত হলো দুঃস্বপ্নে।ইভ্যালি,ই-অরেঞ্জ, রিং আইডি,  কিউকমসহ এমন প্রায় ১২টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে প্রতারণার ।

গ্রাহকের কেনা পণ্য দিচ্ছে না, আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছে না তারা। কেউ কেউ গ্রাহককে পাওনার বিপরীতে ব্যাংকের চেক দিয়েছে। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয় ‌।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ই–কমার্স ও সোশ্যাল মিডিয়া তথা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য বিক্রয়কারী এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ প্রতারিত হয়েছেন।

প্রতারণার সেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো খাতে।পুলিশ, র‌্যাব, গ্রাহক ও মালিকপক্ষের দাবি অনুযায়ী, চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের তিন হাজার ১২১ কোটি টাকা পাওনার তথ্য পাওয়া গেছে।

ভুক্তক্তভুগিরা বলছেন, অনলাইন কেনাকাটায় মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।দেশে ই-বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ বিভিন্ন লেখনীতে অনলাইনভিত্তিক ‘প্রতারণার’ এমন বাণিজ্য একেবারে বন্ধ করতে জোরালো বক্তব্য রাখছেন।

তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, ই-কমার্স বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়।বন্ধ নয়, ই- কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। গ্রাহকদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে একটি রেগুলেটরি অথরিটি গঠন করে এ খাতকে সুশৃঙ্খল করতে হবে। 

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ই-কমার্স খাতকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গ্রাহককে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে ই-কমার্সকে অবশ্যই আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।

পৃথিবীর সব দেশেই অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এ ব্যবসা চলছে। আমি মনে করি যারা এ ধরনের ব্যবসা করবেন, ব্যবসার আকার বুঝে নির্দিষ্ট পরিমাণ জামানত সংরক্ষণের মাধ্যমে তাদের লাইসেন্স দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হন, তাহলে ওই জামানত থেকে ক্ষতিগ্রস্তকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে। আর কেউ প্রতারিত হলে তিনি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করতে পারেন । 

কতিপয় ব্যক্তি তাদের অসাধু কার্যকলাপের জন্য এ খাতকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ এ খাতে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন,‘আমাদের দেশে ই-কমার্স নিয়ে এখনও কোনো আইন হয়নি। এটিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।  

সরকারের উচিত ছিল আইনি কাঠামো তৈরির পর ই-বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া। কোনো আইনি কাঠামো না থাকায় গ্রাহকরা সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন । 

ডিজিটাল এ যুগে ই-কমার্স বন্ধের প্রশ্নই আসে না। করোনা আমাদের দেখিয়েছে অনলাইন প্লাটফর্ম কতটা প্রয়োজন। তবে এ প্লাটফর্মে প্রতারণার সব পথ বন্ধ করতে যুগোপযোগী আইনি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।’

আইনি কাঠামোতে যারা প্রতারণা করেছেন, তাদের হয়তো বিচারের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু টাকা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। কারণ, আইনে তো আসলে কিছুই স্পষ্ট করে বলা নাই। এ কারণে ই-কমার্সের জন্য নতুন আইনি কাঠামো প্রয়োজন রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এ কথা বলনে ।যাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এখন পর্যন্ত ১২টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পণ্য ও টাকা না দেওয়ার নানা অভিযোগ উঠেছে। মামলাও হয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, কিউকম, নিরাপদ ডটকম, এসপিসি ওয়ার্ল্ড, সিরাজগঞ্জ শপ, আলেশা মার্ট, দালাল প্লাস, আদিয়ান মার্ট, আলাদিনের প্রদীপ ও প্রিয় শপ।

 
একুশে সংবাদ/ আজাদ