গাজীপুরের পৌরসভায় টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ২৪ ঘণ্টা পরও দুর্ভোগ কাটেনি শত শত পরিবারের। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাবার প্রস্তুতের অসুবিধা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে গেছেন। কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। পানিবন্দি মানুষের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং খাবারের ব্যবস্থা করা।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে টানা প্রায় তিন ঘণ্টার ভারী বর্ষণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ ও হরিনহাটি এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। পাশাপাশি আশপাশের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ড্রেনের নোংরা পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। তলিয়ে গেছে শাখা ও উপশাখা সড়কগুলোও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভাগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও কালিয়াকৈরে জলাবদ্ধতা যেন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ড্রেন-নালায় জমে থাকা ময়লার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি দীর্ঘসময় আটকে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় সাবমার্সিবল পাম্প ও টিউবওয়েল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক বাসিন্দাকে দূরবর্তী এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এছাড়া ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক স্থানে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে পরিবারগুলো রান্না করতে না পেরে খাদ্য সংকটে পড়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার কয়েকটি স্কুল ও মাদ্রাসায়ও পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। এবার টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ড্রেন ও নালায় আবর্জনা জমে থাকায় একদিন পার হলেও পানি নামছে না।”
এদিকে গত ৫ আগস্টের পর থেকে কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পৌরবাসীর অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তারা দ্রুত আধুনিক ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এএইচএম ফখরুল হোসাইন বলেন, “ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানি জমে গেছে। ড্রেন দিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

