ঢাকার সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় মডেল, অভিনেত্রী নায়লা নাঈমকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বাজারে শাকসবজি কেনার সময় এক ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দিয়ে পোশাক ও পর্দা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নায়লা নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১ জুন) বিকেলে সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের ভাকুর্তা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় তাদের পারিবারিক জমি রয়েছে। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তিনি বাজারে শাকসবজি কিনতে যান। সেখানেই এমন ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারেননি তিনি। ওই ব্যক্তির কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
নায়লা নাঈম জানান, তিনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি কিনছিলেন। তার দুই হাতে বাজারের ব্যাগ ছিল। এক হাতে আগে কেনা প্রায় পাঁচ-ছয় কেজি সবজি এবং অন্য হাতে আরও একটি ব্যাগ ছিল। বাজারের একটি দোকানে টাকা পরিশোধের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি তার বাম পাশ দিয়ে এসে জোরে ধাক্কা দেন।
তিনি দাবি করেন, ধাক্কা দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তি তার পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন।
নায়লা নাঈম বলেন, ‘লোকটা বলে, আমার মাথায় পর্দা নাই, আমি কেন বাজারে আসছি। “পর্দা নাই, বাজারে ঘুরতেছে”, এই ধরনের কথাও বলেছে। প্রথমে আমি বিষয়টা বুঝতে পারিনি। পরে বুঝতে পারি, এসব কথা বলেই আমাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’
নায়লা নাঈমের দাবি, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত। তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি দুই হাত ব্যবহার করে আমাকে ধাক্কা দেয়। আমার ব্যাগ বরাবর জোরে ধাক্কা দেয়। সেখানে দাঁড়ানোর জায়গাও খুব কম ছিল। আমি শুধু দোকানদারের কাছ থেকে টাকা ফেরত নিয়ে অটোতে উঠে চলে যেতে চেয়েছিলাম।’
ঘটনার পর তিনি দ্রুত বাজার ত্যাগ করেন। অটোতে ওঠার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো বিষয়টি উপলব্ধি করেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আম্মু তখন আমার ব্যাগ ঠিক করছিল এবং আমাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিল। আমি এমন মানুষ না যে কেউ বাজে মন্তব্য করবে আর আমি কিছু না বলে চলে আসব। কিন্তু ঘটনাটা এত আকস্মিক ছিল যে আমি প্রতিবাদই করতে পারিনি। পুরো রাস্তা ভাবছিলাম, আমার নিজের দেশে আমি কেন এমন অপমানের শিকার হলাম।’
এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ করেছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে নায়লা নাঈম বলেন, তিনি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।
তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। আমি কাউকে কিছু জানাইনি। প্রথমেই সবাই এভিডেন্স চাইবে। আমি তো লোকটাকে চিনি না। একজন র্যান্ডম বাজারের লোক। তাকে কোথা থেকে খুঁজে বের করব? বাজারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ হয়নি। তার আগেই আম্মু আমাকে নিয়ে চলে আসে।’
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভাকুর্তা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ আলী বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এখনও আমরা বিষয়টি নিয়ে অবগত নই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

