জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সরকারি খাদ্য মজুত শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সোমবার বিকেল ৪টায় উপজেলা খাদ্যগুদাম চত্বরে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে খাদ্য বিভাগ,কৃষি বিভাগ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, চাউল-কল মালিক সমিতির নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পান এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহের ফলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে বাজারে ধানের মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং কৃষকদের মাঝে আস্থা সৃষ্টি হবে। কৃষির উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব রায়হান চঞ্চল জানান, চলতি বোরো মৌসুমে কালাই খাদ্যগুদামে মোট ৫ হাজার ২৬৯ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন ধান এবং ৩২৪ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এ সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। তিনি আরও বলেন, “এবার সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি কেজি বোরো ধান ৩৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকায় সংগ্রহ করা হবে। কৃষকরা যাতে সহজে ধান বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ, মোলামগাড়ী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদ আলম, চাউল-কল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, চাতাল মালিক আব্দুল মান্নান, আবুল খায়েরসহ বিভিন্ন চাতাল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমবে বলে তারা মনে করছেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

