ফরিদপুরের সালথা উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রিজ নির্মাণকাজ চললেও বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
উপজেলার সালথা সদর বাজার ও বালিয়াগট্টি বাজার এলাকায় চলমান ব্রিজ নির্মাণের কারণে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পরিবহন চালকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-সালথা সড়কটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম আঞ্চলিক সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন উপজেলার মানুষ জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য, মাছ, সবজি ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অনেক। তবে নির্মাণাধীন দুটি ব্রিজের কারণে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে মানুষকে বিকল্প সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো পরিকল্পিত বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু করায় দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বড় যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে বাস ও ট্রাক। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
সালথা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আগে কয়েক মিনিটেই বাজারে আসা যেত। এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে আসতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ও প্রভাব পড়ছে।”
স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যেতে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। সকালে সময়মতো বের হলেও যানজটের কারণে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। বৃষ্টি হলে বিকল্প কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।”
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাস, মাহেন্দ্র ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা। সরু রাস্তায় যানবাহন ক্রসিং করতে গিয়ে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে রাস্তার পাশে কাদা জমে থাকায় যানবাহন আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
পণ্যবাহী ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, “রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি ঘোরাতে সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় আটকে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়নকাজ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আগে বিকল্প চলাচলের রাস্তা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। দ্রুত অন্তত সাময়িকভাবে চলাচল উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সালথা উপজেলা ইউএনও মো. দবির উদ্দিন বলেন, “নির্মাণাধীন ব্রিজের আশপাশে বিকল্প রাস্তা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে কেউ জায়গা দিলে দ্রুত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।”
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

