শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের কাটাখালি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা আনুষ্ঠানিকভাবে এ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন, কৃষি উৎপাদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুল হাসান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ হযরত আলী, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বপন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাহাত, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল আলম শিপন, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতাহারুল ইসলাম আতা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম হাসান উজ্জ্বলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সদর উপজেলা পরিষদের ইউজিপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সোয়া চার কিলোমিটার দীর্ঘ কাটাখালি খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো।
কৃষিজমিতে সঠিকভাবে পানি প্রবাহ না থাকায় কৃষকরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হতেন। খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় জলাবদ্ধতা কমে আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ডাঃ প্রিয়াঙ্কা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। খাল খননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন হবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে। তিনি বলেন, “খাল পুনঃখনন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি চরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তারেক রহমান পুনরায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডাঃ প্রিয়াঙ্কা বলেন, শেরপুরের চরাঞ্চলে এখনও অনেক অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। ধাপে ধাপে ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
ওই ইউনিয়নের কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাটাখালি খালটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম আমরা। খালটি খনন হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিকাজে বড় ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে নৌযান চলাচলেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন আমরা।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা খাল খনন কাজের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত ও সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

