AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ভূমধ্যসাগরের নীল জল অনেক পরিবারের কান্নার সাক্ষী


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ
০৯:৪০ পিএম, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

ভূমধ্যসাগরের নীল জল  অনেক পরিবারের কান্নার সাক্ষী

ভূমধ্যসাগর আবারও গিলেছে স্বপ্ন। উন্নত জীবনের স্বপ্নে ইউরোপগামী অবৈধ পথে পাড়ি দেওয়া মানুষগুলোর এই মরণযাত্রা থামছেই না। ইউরোপে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লিবিয়া উপকূল থেকে যাত্রা করা একটি ছোট রাবারের নৌকা, যা অনেকের কাছে ‘গেম’ সেটিই এখন পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। গত শনিবারের সর্বশেষ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে ১৮ জনই  সিলেটের সুনামগঞ্জের।

জীবিত উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের বর্ণনায় উঠে এসেছে বিভীষিকার চিত্র, ছয় দিন ধরে দিকহীন ভেসে থাকা, খাবার ও পানির সংকট, আর একে একে সঙ্গীদের মৃত্যু। প্রতি বছর লিবিয়া থেকে ইতালি ও গ্রিসগামী এই অনিরাপদ সমুদ্রপথে হাজারো মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। তবুও থামছে না এই মরণযাত্রা। বরং এ যাত্রায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বাংলাদেশির সংখ্যা।

ইউরোপের স্বপ্নের পথে প্রথম গন্তব্য লিবিয়া। তবে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ থেকে প্রথমে যান লিবিয়া। সেখানে পৌঁছানোর পর অধিকাংশ অভিবাসীই পড়ে দালাল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে। তাদের রাখা হয় গোপন ক্যাম্পে বা পরিত্যক্ত গুদামে। সেখানে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, পর্যাপ্ত খাবার ও পানির অভাব, পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ আদায়, অনেকে মাসের পর মাস এই নির্যাতন সহ্য করেন, শুধু একটি সুযোগের অপেক্ষায়, সমুদ্রপথে ‘গেমে’ ওঠার সুযোগ।

অভিবাসন প্রত্যাশীদের ভাষায় ‘গেম’ মানে ইউরোপের উদ্দেশে শেষ যাত্রা। গভীর রাতে সমুদ্রতীরে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। একটি ছোট রাবারের নৌকা বা ট্রলারে গাদাগাদি করে তোলা হয় ১০০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত। বড় নৌকায় ২০০ থেকে ৩০০ জন। নেই পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, নেই নিরাপদ নৌযান, নেই প্রশিক্ষিত চালক।

তারপর শুরু হয় অনিশ্চিত যাত্রা; এ যাত্রায় কখনো ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়, কখনো ঢেউ নৌকাকে উল্টে দেয়, কখনো খাবার-পানি শেষ হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার পথ কখনো কয়েক দিনে গড়ায়। আর সেই সময়েই ঘটে ট্র্যাজেডি। সমুদ্রে নামার পর অভিবাসীরা মূলত ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। 

যদি ইতালি বা গ্রিসের কোস্টগার্ড দেখতে পায়, তবে উদ্ধার মেলে। না হলে ডুবে মৃত্যু, পানিশূন্যতায় মৃত্যু, কিংবা চিরতরে নিখোঁজ, অনেক সময় মৃতদেহও আর ফিরে আসে না। পরিবার জানতে পারে না তাদের প্রিয়জনের শেষ পরিণতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই রুটে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব, বৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার সীমিত সুযোগ, দালালচক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এর পেছনে দায়ী। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দালাল ধরলেই হবে না, সমস্যার মূল জায়গায় হাত দিতে হবে। বৈধ অভিবাসনের পথ সহজ করা বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ বাড়ানো, গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমন্বিত অভিযান, তা না হলে এই স্রোত থামানো কঠিন।

ভূমধ্যসাগরের নীল জল আজ অনেক পরিবারের কান্নার সাক্ষী। প্রতিটি লাশের পেছনে রয়েছে একটি স্বপ্ন, একটি পরিবার, একটি ভবিষ্যৎ। তারপরও প্রশ্নটা থেকে যায়, আর কত প্রাণ গেলে থামবে ‘গেম’ নামের এই মরণযাত্রা?

 

একুশে সংবাদ/ওজি
 

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!