AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বরেন্দ্রের মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণের উৎসব চলছে



বরেন্দ্রের মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণের উৎসব চলছে

রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণের উৎসব শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে নয়টি উপজেলায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বীজতলা থেকে চারা তোলা ও রোপণের কাজ। আর এই জমি থেকে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩০৩ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার নয়টি উপজেলা—তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা, পবা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাঘা ও চারঘাটে—মোট প্রায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়েছে রোপণ কার্যক্রম। তখন কনকনে হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করেই কৃষকরা বোরো রোপণ শুরু করেন। এ কার্যক্রম চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত।

এ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণ করা হয়েছে। বিশেষ করে গোদাগাড়ী, তানোর, পবা ও মোহনপুরের মাঠগুলো এখন কৃষকদের কর্মতৎপরতায় মুখর। কৃষকদের চোখে-মুখে আগামীর স্বপ্ন।

গোদাগাড়ীর কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে পুরোনো জাতের ধান লাগাতাম, ফলন কম হতো। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নতুন জাতের বীজ লাগিয়েছি। খরচ আগের মতোই, কিন্তু ফলন কয়েক মণ বেশি হবে শুনছি। সেটাই এখন বড় ভরসা।’

পবা উপজেলার দারুশা এলাকার কৃষক মতিউর রহমান বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে চাষাবাদ করি। এবার শীতটা একটু বেশি ছিল, তাই বীজতলা তৈরি করতে শঙ্কা ছিল। কিন্তু কৃষি অফিসের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে ঢেকে চারাগুলো রক্ষা করেছি। এখন চারা বেশ শক্ত হয়েছে। আশা করছি ফলন ভালো হবে।’

তবে শুধু আশার কথা নয়, খরচের দুশ্চিন্তাও ভর করেছে অনেক কৃষকের মনে। তানোর উপজেলার কৃষক সফিকুল ইসলাম জানান, সবকিছুর দাম বাড়ছে। ডিজেল ও সারের দাম বাড়ায় এবার চাষের খরচ একটু বেশি পড়বে। আমরা যারা বর্গাচাষি, তাদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করে, তবেই আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।

এ বছর রাজশাহীর মাঠগুলোতে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারও বেড়েছে। কৃষকরা ব্রি ধান-২৮ ও ২৯-এর পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-৯২ এবং জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০০ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া বাজারে যাতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষকরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মিতা সরকার বলেন, ‘বোরো রোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেক জমিতে ইতোমধ্যে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো রোপণ সম্পন্ন হবে। কৃষকরা যাতে ভালোভাবে আবাদ করতে পারেন, সে জন্য সরাসরি মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের লাভ নিশ্চিত করা।’

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!