AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

লোকসানে মানিকগঞ্জের পেঁয়াজচাষিরা



লোকসানে মানিকগঞ্জের পেঁয়াজচাষিরা

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে এবছরও লোকসানের মুখে পড়েছেন পেঁয়াজচাষিরা। নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে প্রতি মণ অতিরিক্ত ২ কেজি ঢলন (বাড়তি) দিতে হচ্ছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলন তুলনামূলক ভালো হলেও দাম একেবারেই কম হওয়ায় এবছরও হাজার হাজার কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় চলতি বছরে মুড়িকাটা (কন্দ) পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,১৪০ হেক্টর জমি। তবে আবাদের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে বলেও জানা যায়।

সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক এবং কৃষাণীরা পেঁয়াজ তুলনা ও মুড়ি কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকরা জানান, প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ১ থেকে দেড় মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। কিন্তু সেই ফলন তুলতে গিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে মণপ্রতি দাম মিলছে মাত্র ১,১০০ থেকে ১,৪০০ টাকা। এর ওপর বিক্রির সময় প্রতি মণে ২ কেজি করে অতিরিক্ত পেঁয়াজ দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে হিসাব করলে লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না।

উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা শিকদারপাড়া গ্রামের কৃষক ছানোয়ার জানান, তিনি ২৪ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। প্রতি শতাংশে ১ থেকে দেড় মণ ফলন হলেও বিক্রি করে পাচ্ছেন ১,১০০ থেকে ১,৩০০ টাকা। কিন্তু খরচ হয়েছে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা। ফলে প্রতি শতাংশে প্রায় হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

পোদ্দারপাড়া গ্রামের কৃষক খোরশেদ বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পেঁয়াজের দাম কম। আমি এ বছর ৪ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছি। ফলন মোটামুটি ভালো হলেও দাম এখন কম। বিঘাপ্রতি পেঁয়াজ চাষে খরচ হয়েছে ৯০,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা। বর্তমান দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

ঝিটকা বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মোঃ মিজান জানান, বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ব্যাপক দরপতন হয়েছে। মাস খানেক আগেও যে পেঁয়াজ ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকা মণ দরে ক্রয় করেছি, এখন তা ১,১০০–১,৪০০ টাকায় ক্রয় করছি। বাজারে পেঁয়াজের আমদানি বৃদ্ধির কারণে দাম কমে গেছে। ভেজা পেঁয়াজ কেনার পরে ওজন কমে যায়, তাই আমরা ৪২ কেজিতে এক মণ নেই। শুধু আমি নয়, সবাইকে একই নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, হরিরামপুর উপজেলা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য একটি সমৃদ্ধ এলাকা। চলতি মৌসুমে যে পরিমাণ পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবছরই এই উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। কিছুদিন পর পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশাবাদী।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ইতিমধ্যে বরঙ্গাইল হাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ঝিটকা বাজার কমিটিকেও সতর্ক করা হয়েছে। যদি কেউ কৃষকের ইচ্ছার বাইরে অতিরিক্ত নেই, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!