অন্যতম অর্থকরি চাষ আম চাষ। এ বছর আম গাছে মুকুল আসার আগে ও পরে তুষার ও বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে আম গাছগুলো। বাতাসে ছড়াচ্ছে মুকুলের সু-গন্ধ। সোনালী রংয়ের মুকুল দেখে ভাল ফলনের আশায় চাষিরা সোনালী স্বপ্ন বুনছে চাষিরা।
তবে নায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শংকা রয়েছে। তারপরও বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ কারনে সংশ্লিষ্টদের কাছে চাইলেন সঠিক পরিচর্যার পরামর্শ। চাইলেন উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানির নিশ্চয়তা। উদ্ধোর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আম রপ্তানির ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস কৃষি কর্মকর্তার।
জানা যায়,৫ টি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভা নিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা। এ উপজেলায় রয়েছে ৭শ হেক্টর জমিতে আমের চাষ। তবে সব থেকে বেশি চাষ হয় পৌরসভাতে। এ উপজেলার ২ হাজার ২শ ৭২ জন চাষি এ চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
এখানে সু-মিষ্ট ও নামী দামি উৎপাদিত আমের মধ্যে রয়েছে লাংড়া,হিম সাগর,হাড়ি ভাংঙ্গা, গোপাল ভোগ,আম্ররোপালি,কাঠিমন,বেনানা,আশ্বিনে। আম নিয়ে একটা প্রবাদ বাক্য প্রচলিত আছে এইএলাকায়। সেটা হচ্ছে পৌষে কুশি, মাঘে বোল, ফাল্গুনে গুটি, চৈত্রে আটি, বৈশাখে কাটিকুটি, জ্যৈষ্ঠে দুধের বাটি। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পৌষ আর মাঘ মাসে প্রকৃতিক দূর্যোগ কুয়াশা ছিল না।
যে কারনে এ বছর আমের মুকুল নস্ট হয়নি। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে আমগুলো। বাতাসে ছড়াচ্ছে আমের মুকুলের সুগন্ধি। চাষিরা আম গাছের সোনালী মুকুল দেখে স্বপ্ন বুনছে ভাল ফলনের। আশা করছে উৎপাদিত আমের ভাল দাম পাবারও।
তবে রয়েছে নায্যমূল্য না শংকাও। বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে এ আশংকা করছেন চাষিরা। এ কারনে তারা চান এখানকার উৎপাদিত আম যেন বিদেশে রপ্তানি হয়। আর তাঁর জন্য যেভাবে আম প্রস্তুত করলে, বিদেশে রপ্তানির উপযুক্ত হয়। তার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে চাইলেন পরামর্শ ও সহায়তা।
কোটচাঁদপুরের সলেমানপুর গ্রামের আম চাষি সজিব মৃধা বলেন,দীর্ঘদিন ধরে আমের চাষ করে আসছি। উৎপাদনও ভাল হয়। আর অন্যান্য সব জায়গার আমের থেকে আমাদের আম অনেক সুমিষ্ট। তারপর ও আমরা ভাল দাম পায় না।
এ কারনে স্থানীয় কৃষি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দাবী ওনারা যেন আমাদের উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করে দেন। তাহলে আমরা অনেক বেশি লাভবান হবো। একই গ্রামের চাষি রিপন সর্দার বলেন,১৫ জমিতে আমের চাষ আছে।
আগের দিনে আম চাষে তেমন খরচ হত না। শুধুমাত্র গাছ লাগিয়ে রাখলেই আম যা উৎপাদিত হত,তাতেই চাষিরা খুশি থাকতো। এখন বানিজ্যিক ভাবে আমের চাষ করতে গিয়ে অনেক ব্যয় হয়ে থাকে। যদিও এটা ৩ মাসের ফসল। তবে পরিচর্যা করতে হয় সারা বছর ধরে।
এ কারনে অনেক ব্যয় হয়। যা বিক্রি করতে গেলে না্য্যমূল্য পাওয়া যায় না। এ কারনে চাই আমাদের উৎপাদিত আম যেন বিদেশে রপ্তানি যোগ্য হয়। এর জন্য যে ধরনের পরামর্শ প্রয়োজন হয়,তা যেন আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পায়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন,২০২৪-২৫ অর্থ বছর অনুযায়ী কোটচাঁদপুরে
৭শ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ১২ হাজার ৯শ ৫০ মেট্রিক টন আম। যা কেজিতে হয় ১ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার কেজি। যা ৩০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়েছিল ৩৮ কোট ৮৫ লাখ টাকা।
তিনি বলেন,এ বছর গাছগুলোতে আমের মুকুল অনেক বেশি। এ কারনে গেল বছর থেকে এ বছর আমের উৎপাদন অনেক বেশি হবে। আর এ কারনে আমরা আমের মুকুল ও গুটি পরিচর্যার জন্য চাষিরদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। বিতরন করা হচ্ছে আম সংক্রান্ত লিফলেট।
তিনি আরো বলেন,আম বিদেশে পাঠাতে হল কিছু প্রক্রিয়া আছে। সেগুলো মেনে আম বিদেশে পাঠাতে হয়। আমরা চাষিদের সে ধরনের পরামর্শ প্রদান করে আসছি। এ ছাড়া বিদেশে আম রপ্তানির জন্য সংশ্লিষ্ট স্যারেদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যহত রেখেছি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

