বাতাসে ভাসছে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা দিচ্ছে আমের মুকুল।
মৌমাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই কুহুতানে মাতাল করতে আবারও এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। ছোট-বড় আম গাছে ফুটতে শুরু করেছে নতুন মুকুল। মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। যে ঘ্রানে মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।
আবহমান গ্রামবাংলায় সাধারণত আগাম জানান দেয় তার আগমনী বার্তা। তেমনি ঋতুরাজ বসন্ত কমলগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় আম গাছে আমের মুকুল জানান দিচ্ছে মধু মাসের আগমনী বার্তার।
কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, থানার পাশে, বাড়ির আঙ্গিনায়, পুকুরপারে রাস্তার কিনারে সর্বত্রই আম গাছগুলো তার মুকুল নিয়ে হলুদ রঙ ধারণ করতে চলেছে। ধীরে-ধীরে আমের মুকুলে ছেয়ে যাচ্ছে গাছের প্রতিটি ডাল। সৌন্দর্য বাড়তে শুরু করেছে প্রকৃতির।
স্থানীয়রা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে বসন্তের আগেই আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে মাঘ মাস শেষ। ফাল্গুন মাসের শুরুতে প্রতিটি গাছে পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটতে শুরু হয়েছে। তারা আরও জানান, এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ না হলেও স্থানীয়রা বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে বিভিন্ন প্রকার চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করে থাকেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, আমের মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। কুয়াশার কারণে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। তবে আমের মুকুল আগে পরে যে আবহাওয়া প্রয়োজন তা এখনো বিরাজমান রয়েছে। এবার আবহাওয়ার কারণে আম গাছে আগাম মুকুল এসেছে। ভালোভাবে পরিচর্যা করা হলে ফলন ভালো হবে।
কমলগঞ্জ পৌর শহরের তানিম হাসান বলেন, ‘ফাল্গুন মাসের প্রথম দিকে আম গাছে আমের মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। এবার আমের মুকুল অন্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি ফুটেছে।
বৃষ্টির জন্য অনেক মুকুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’
ভানুগাছ বাজারের সালমা বেগম বলেন, ‘অন্যবারের চেয়ে কিছুটা আগে এসেছে মুকুল। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়েন্ত কুমার রায় জানান, ‘এবার গরমের আগেই চলে এসেছে গাছে মুকুল। কিছু কিছু গাছে মাথা ফাটছে। আবার কিছু কিছু গাছে মুকুল এসেছে। কমলগঞ্জের আমের নির্ধারিত কোন বাগান নাই। যাই আছে ব্যক্তিগত।
যদি কেউ বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ করার আগ্রহী থাকে, তাকে উপজেলা কৃষি অফিস সুপরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।’
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

