প্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর -শান্তিগঞ্জ ) আসনটি স্বাধীনতার পর থেকেই বেশীর ভাগ সময় আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি দখলে নিতে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। তবে ভোটের লড়াইয়ে চমক দেখাতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
তিন লাখ ৬৩ হাজার ভোটারের এ আসনে সাত জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন– বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কয়সর এম আহমদ (জগন্নাথপুর) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাবেক সাংসদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী(জগন্নাথপুর) এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম(জগন্নাথপুর) সতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন(শান্তিগঞ্জ)খেলাফত মজলিস মনোনীত হাফিজ শেখ মুস্তাক( জগন্নাথপুর) স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. খালেদ আহমদ তুষার (শান্তিগঞ্জ) স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমদ(শান্তিগঞ্জ)।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি ও অন্যদলের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন তাদের শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের ভোট, সাধারণ মানুষের ভোটের আঞ্চলিকতার ভোট ফ্যাক্টর হতে পারে। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের একটা রিজার্ভ ভোট রয়েছে। সেই ভোট যার দিকে যাবে, তিনিই বিজয়ী হবেন।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভোট নিজেদের বাক্সে নিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে চলেছেন বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। আবার অনেক প্রার্থী প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিএনপি ও জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন।
এদিকে এ আসনের বিএনপি , খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, প্রার্থীর বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলায়। অন্যদিকে সতন্ত্র প্রার্থী তালা (প্রতিকের) ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনর বাড়ি শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হওয়ায় আঞ্চলিকতার ফ্যাক্টরে অনেকটা এগিয়ে আছেন তিনি ।
পাথারিয়া ইউনিয়নের ভোটার জিয়াউর রহমান বলেন, দেশে বিএনপি আর আওয়ামী লীগ দুই দল। আওয়ামী লীগ নেই। বাকি সব দল হিসেবের বাইরে। এ কারণে নির্বাচনে সবাই নিজের ইচ্ছেমতো পছন্দের প্রতিকে ভোট দিবে।
পূর্ব বীরগাও ইউনিয়নের সলফ গ্রামের ভোটার তরুণ সমাজকর্মী জুয়েল মিয়া, বলেন, এবারের নির্বাচনে নতুন কিছু দেখতে চায় যুবসমাজ। পরিবর্তন চায় দেশের জনগণ। পরিবর্তনের জন্য তালা মার্কায় আমরা ভোট দিব।
পশ্চিম বীরগাও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা টাইলা গ্রামের বাসিন্দা আকিবুল মিয়া, বলেন, এবার সৎ লোকের শাসন চায় মানুষ। কয়সর এম আহমদকে ভোট দিয়ে মানুষ শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হাফিজ আবু খালেদ বলেন, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ মানুষ ইনসাফের পক্ষে ভোট দিবে।



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

