AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্যাম্প কমান্ডারসহ সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার



সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্যাম্প কমান্ডারসহ সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলু (৪৮) সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা-কর্মীরা চুয়াডাঙ্গা–যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতির সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামসহ অতিরিক্ত সেনা সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান নেন। অপরদিকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। পরে দুপুর দেড়টার দিকে কঠোর নিরাপত্তায় মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এদিকে সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “এই মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ঘটনায় মামলা হবে এবং পুলিশ সর্বোচ্চ আইনগত সহায়তা দেবে।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “সুরতহাল রিপোর্ট পেয়েছি। এখন মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হচ্ছে। সঠিক বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব।”

নিহত ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় সেনাসদস্যরা এসে তাঁকে বেদম মারধর করে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মকবুল হোসেন জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ডাবলুর ফার্মেসি থেকে তাঁকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ এডি রেজিমেন্ট (টিটিসি আর্মি ক্যাম্প)-এর সদস্যরা তুলে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলে তাঁকে জীবননগর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১০টার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শামসুজ্জামান ডাবলু দুই সন্তানের জনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সন্তানদের সঙ্গে তোলা ছবি ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়। জেলা বিএনপি এ ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১২ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে জীবননগরে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে একটি ফার্মেসি থেকে শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুকে আটক করা হয় এবং তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অভিযান শেষে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং রাত ১২টা ২৫ মিনিটে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে জানানো হয়, ইতোমধ্যে ক্যাম্প কমান্ডারসহ অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সেনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!