পৌষ মাসের শুরু থেকেই জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ওপর দিয়ে তীব্র ঠান্ডা, হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।দিনের পর দিন সূর্যের দেখা না মেলায় বীজতলার চারাগুলো খাদ্য তৈরি করতে পারছে না।
ফলে শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ছে, শিশির জমে গোড়ায় পচন ধরছে এবং অনেক স্থানে চারা হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা নিচু জমিতে বোরো মৌসুমের জন্য বীজতলা তৈরি করেছেন। আর মাত্র ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে এসব বীজতলা থেকে চারা তুলে মূল জমিতে রোপণের কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান আবহাওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেসতে যেতে বসেছে।
হাতিয়র গ্রামের কৃষক আলী আনছার জানান,এক সপ্তাহ ধরে কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডায় তাঁর বীজতলা মারাত্মক ক্ষতির মুখে।আবহাওয়া আরো কয়েকদিন এমন থাকলে পুরো বীজতলাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
হাজিপাড়া গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন,চারাগুলো দুর্বল হয়ে হলুদ রং ধারণ করছে, যা ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়ে শঙ্কা বাড়াচ্ছে।বীজতলা রক্ষায় কৃষকেরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।
পৌর এলাকার কাজিপাড়া মহল্লার ফজলুর রহমান জানান, প্রতিদিন ভোরে লাঠি দিয়ে চারার ওপর জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ রাতে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছেন, আবার কেউ গরম পানি ছিটাচ্ছেন। তবে কুয়াশার তীব্রতা কম না হওয়ায় পুরোপুরি ক্ষতি ঠেকানো যাচ্ছে না।
জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন কৃষক জানান, ছত্রাকনাশক ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না, বরং খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
আহম্মেদ ইউনিয়নের হারাঞ্জা গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, অনেক বীজতলাই ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে গেলে অতিরিক্ত খরচ হবে, যা ছোট ও মাঝারি কৃষকদের জন্য বড় চাপ।
পুনট গ্রামের কৃষক হাসান আলী জানান, কৃষি কর্মকর্তারা পলিথিন ব্যবহার ও বীজতলায় পানি রাখার পরামর্শ দিলেও বাড়তি ব্যয়ের কারণে সবাই তা করতে পারছেন না।
মাত্রাই গ্রামের কৃষক মো. সবুজ মিয়া বলেন, চার বিঘা জমির জন্য বীজতলা করতে তাঁর প্রায় ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কয়েকদিনের শীতে চারাগুলো সাদা হয়ে পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বীজতলা নষ্ট হলে নতুন করে বীজ জোগাড় করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি ও ছত্রাক আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এজন্য পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা, সকালে পানি পরিবর্তন করা এবং জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তবে, কৃষি বিভাগ আশা করছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরও কয়েকদিন কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে।এতে সময়মত চারা রোপণ ব্যাহত হলে বোরো উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

