দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজশাহীর তানোর। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় তানোরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকাশে কুয়াশার আধিক্য তেমন না থাকলেও হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট বেড়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) তানোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল মাত্র সাড়ে ৮ ডিগ্রি। তাপমাত্রার এই স্বল্প ব্যবধান এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে।
ভোর ৬টা ৪৭ মিনিটে সূর্যোদয়ের কথা থাকলেও সকাল ১১টার দিকে সূর্যের দেখা মিলেছে, তবে রোদের তেজ ছিল খুবই কম। শীতের কারণে শহর ও গ্রাম—সবখানেই জনজীবন কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল শতভাগ। ফলে কনকনে ঠান্ডা বাতাস শরীরে তীব্র শীতের শিহরণ ছড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।
অটোভ্যান চালক সামাদ বলেন, গত শনিবার, রোববার ও সোমবার সূর্যের দেখা পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অল্প কিছু মানুষের চলাচল থাকলেও সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। উত্তরের হিমেল বাতাসে প্রচণ্ড শীত লাগছে। শরীরের যে অংশ খোলা থাকে, সেখানে তীব্র শীত অনুভূত হয়। ভাড়াও পাওয়া যাচ্ছে না। তবুও পেটের দায়ে বের হতে হয়।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশের সর্বনিম্ন। বাতাসে আর্দ্রতা শতভাগ থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও কম মনে হচ্ছে।
চা দোকানি ডলার বলেন, গত কয়েক দিন চা বানানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বাতাস যেমন ছিল, ঠান্ডাও তেমন ছিল। পানিতে হাত দেওয়া যাচ্ছিল না। রাতে শীতের প্রকোপ আরও বেড়ে যায়।
শ্রমিক মোস্তফা, হাবিল, সৈয়দ ও মুনসুর জানান, ভোরে কাজে বের হলে ঝড়ের মতো ঠান্ডা বাতাস অনুভূত হয়। সঙ্গে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ে। এত কুয়াশায় জমি চিনে কাজ করাই কষ্টকর। তবে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সূর্যের আলো দেখা দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
মৎস্যজীবী আফজাল, বিসু ও সবুর জানান, গত তিন রাত ধরে প্রচণ্ড শীতের কারণে বিলে নামা যায়নি। পানিতে নামলে মনে হয় বরফ জমে আছে। এত শীত আগে কখনো দেখেছেন কি না, তা তাদের জানা নেই।
উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে জানান এনজিও কর্মী জাহাঙ্গীর ও সরজিত। তারা বলেন, সকালে মোটরসাইকেল চালাতে হলে শরীর পুরোপুরি ঢেকে বের হতে হয়, তারপরও শীত কমে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. বার্নাবাস হাসদাক জানান, শীত বাড়লেও এখনো হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি নয়। তবে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি। শীতে শিশুদের সর্দি-কাশি ও জ্বর এবং বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রির নিচে হলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীতে প্রথম দফার শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। এরপর টানা চার দিন শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। এর মধ্যে গত শুক্রবার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সোমবার আবার তা নেমে আসে ১০ ডিগ্রিতে। আজ এক ধাপে আরও ৩ ডিগ্রি কমে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

