গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সাংসদের হলফনামা অনুযায়ী মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩৬৮ টাকা। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক সাংসদ এ.কে.এম ফজলুল হক মিলনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩৬৮ টাকা। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ ৫৬৪ টাকা। নির্বাচনে অংশ নিতে হলফনামায় এসব তথ্য দাখিল করেন তিঁনি।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম কামরুল ইসলামের কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় নিজের সম্পদ ও আয়ের বিস্তারিত বিবরণ জমা দেন তিঁনি।
হলফনামার তথ্যানুযায়ী ফজলুল হক মিলনের কাছে বর্তমানে নগদ টাকা রয়েছে ১৫ লাখ ২৫ হাজার ৮২৯। ব্যাংকে জমা রয়েছে ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৩৪১ টাকা ও তার স্বর্ণালংকার রয়েছে ৫০ ভরি। ব্যবহারযোগ্য আসবাবপত্র দেড় লাখ ও ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
স্ত্রীর কাছে নগদ ২১ লাখ ৭১ হাজার ২০৫ টাকা এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৪৮ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে বলে হলফনামায় এসকল তথ্য জানান ফজলুল হক মিলন। তাঁর স্ত্রীর মালিকানায় ২০০ তোলা স্বর্ণালংকার, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং এক লাখ ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস (মাস্টার্স) তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামার তথ্যানুয়ায়ী বর্তমানে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরোও ৪৩টি মামলা ছিল। এসকল মামলার মধ্যে কয়েকটি স্থগিত রয়েছে, কয়েকটি মামলায় খালাস ও কয়েকটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন এবং কিছু মামলা নিষ্পত্তি, কিছু প্রত্যাহার ও কিছু মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
পেশা হিসেবে তিঁনি ব্যবসা এবং তাঁর স্ত্রী গৃহিনী বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ব্যবসা থেকে মিলনের বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা। বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া থেকে আয় ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আয় দেখানো হয়েছে ২৬ হাজার ১৬৪ টাকা।
ফজলুল হক মিলনের কৃষি জমির পরিমাণ ২৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অকৃষি জমি ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ দেখিয়েছেন হলফনামায়। পূবাইলে ৪ হাজার ৪০০ বর্গফুট আয়তনের একটি একতলা ভবন, বনানীতে একটি টিনশেড বাড়ি, কাকরাইলে ১ হাজার ৬৬৩ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং বসুন্ধরায় এক হাজার ৪৭৪ বর্গফুটের এক কোটি ৭০ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটের মালিক তিঁনি।
হলফনামায় স্ত্রী ও সন্তানের কোনো আয়ের উৎস উল্লেখ না থাকলেও স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা। স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৩ টাকা দেখানো হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর রমনা সার্কুলার রোডে ১৮০ বর্গফুটের একটি দোকান রয়েছে স্ত্রীর নামে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৬ হাজার ১৬০ টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন তিঁনি। ফজলুল হক মিলনের নামে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া ৩০ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফজলুল হক মিলন নিজে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৯২৬ টাকা আয়কর দিয়েছেন বলে তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৬৩ বছর বয়সী ফজলুল হক মিলন কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বরতুল গ্রামের বাসিন্দা। গাজীপুর-৫ আসন থেকে বিএনপির টিকেট নিয়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাংসদ থাকাকালে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তার ভ‚মিকা থাকার কথা হলফনামায় উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী কালীগঞ্জে একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন, গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনের পুবাইল ইউনিয়নের ৪০, ৪১ ও ৪২ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। গাজীপুর-৫ জাতীয় সংসদের ১৯৮ নম্বর আসন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৮ জন। হিজড়া ভোটার আছে ২ জন। এখানে ১২৪টি ভোট কেন্দ্রের ৬৭৮টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনে এই আসনে ফজলুল হক মিলনসহ মোট আট জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। ৩ জানুয়ারী মনোনয়ন যাচাই বাছাই হবে। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন মো. খায়রুল হাসান (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), গাজী আতাউর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), রুহুল আমিন কাসেমী (খেলাফত মজলিস), বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজম খান (জনতার দল), কাজল ভূঞা (গণফোরাম), মো. সফিউদ্দিন সরকার (জাতীয় পার্টি) ও মো. আল আমিন দেওয়ান (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ)।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

