চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সরকারি প্রণোদনা পেয়ে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর অধিক পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।
শীতের হিমেল হাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন দুলছে সরিষার মাঠে। চোখজুড়ানো হলুদ সরিষা ফুলের অপরূপ দৃশ্য যে কারও মন জুড়িয়ে দেয়। এ বছর সরকারি প্রণোদনা নিয়ে প্রথমবারের মতো ৪০ শতক জমিতে বীণা-২০ জাতের সরিষা চাষ করেছেন আহলা করলডেঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক মো. জামাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সরিষার বীজ বুনেছি। ঘেরাবাঁধ, শ্রমিকসহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে মাঠ ফুলে ফুলে ভরে গেছে। জানুয়ারিতে ফসল তোলা যাবে। তিনি আশা করছেন, এ মৌসুমে তার জমিতে ৭–৮ মণ সরিষা উৎপাদন হবে। বাজারদর ভালো থাকলে তিনি লাভবান হবেন। এছাড়া সরিষা চাষে সময় ও সেচের প্রয়োজন কম এবং বীজের কোনো সংকট নেই। সময় ও খরচ কম হওয়ায় গত বছর যারা সরিষা চাষ করেছেন, তারা ভালো লাভ করেছেন। আগামীতে সরিষার আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে মাঠে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরিষা চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রচলিত দেশি সরিষার তুলনায় উচ্চফলনশীল জাত বারি-১৪ ও বারি-১৭ এর ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকেরা এসব জাতের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। চাষিরা প্রতি কানি জমি থেকে ৬–৭ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালীতে এ বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৫ হেক্টর জমিতে, যা গত বছর ছিল ৪০ হেক্টর। এর মধ্যে ১৫০ জন কৃষককে সরিষা চাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বারি সরিষা-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮ ও বীণা সরিষা-২০ এর মোট ২৫টি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও নিজস্ব উদ্যোগে অনেক কৃষক সরিষার আবাদ করেছেন। ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম।
তিনি বলেন, সরিষা একটি লাভজনক ফসল এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঝুঁকিমুক্ত। প্রতি বছর সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছে। তেলজাতীয় শস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরিষা চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি ও বিদেশ থেকে ভোজ্যতেল আমদানি কমাতে সরকার কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করছে। আবাদ বাড়লে এর সুফল পাওয়া যাবে।
করলডেঙ্গা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, করলডেঙ্গা এলাকায় আগে কখনো সরিষার আবাদ হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো ২ হেক্টর জমিতে এ এলাকার কৃষকেরা সরিষা চাষ করেছেন। সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়াতে ১০ জন কৃষককে প্রণোদনা, ৫ জনকে বীজ সহায়তা এবং একজন কৃষককে প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শসহ নানাভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

