নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার বজরা ইউনিয়নে অবস্থিত বজরা শাহী জামে মসজিদ বাংলাদেশের মোগল স্থাপত্যের অন্যতম সুন্দর ও ব্যতিক্রমী নিদর্শন। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদ কেবল উপাসনালয় নয়; এটি ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি নির্মিত হয় মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের আমলে, প্রায় ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে। তৎকালীন স্থানীয় জমিদার আলী আহম্মদ খান ধর্মপ্রাণতার সঙ্গে তার শিল্পী রুচি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। চুন-সুরকি, চুনাপাথর ও সূক্ষ্ম কারুকাজের মাধ্যমে নির্মিত এই স্থাপনাটি আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে রেখেছে।
মসজিদের দেয়াল, খিলান, গম্বুজ ও মিনার জুড়ে দেখা যায় মোগল নকশার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। জ্যামিতিক নকশা, ফুলেল কারুকাজ এবং আরবি ক্যালিগ্রাফি মসজিদটিকে আরও অনন্য করেছে। বিশেষ করে গম্বুজের দৃষ্টিনন্দন নকশা ও মিনারের সূক্ষ্ম কারুকাজ স্থাপত্যপ্রেমীদের কাছে এক শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটিকে সংরক্ষিত প্রত্নস্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, বজরা শাহী জামে মসজিদ কেবল একটি স্থাপনা নয়—এটি তাদের গর্ব, ইতিহাস ও ধর্মীয় আবেগের প্রতীক। শান্ত পরিবেশ, মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য ও আধ্যাত্মিক আবেশ যে কাউকেই মুহূর্তেই মুগ্ধ করে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

