ঢাকা সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

এক মাসেও অপসারণ হয়নি রায়েন্দা খালের ভাঙ্গা ব্রীজ


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৬:৫৪ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
এক মাসেও অপসারণ হয়নি রায়েন্দা খালের ভাঙ্গা ব্রীজ

বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা খালের ভাঙ্গা ব্রিজটি প্রায় এক মাস ধরে খালের মধ্যেই পড়ে আছে। এটি অপসারণ না করায় বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী নৌযান। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে নদী পথের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধ হবার উপক্রম। জনগনের ভোগান্তি সহ খাদ্য গুদামের মালামাল সরবারহ ও ইট, বালু, সিমেন্ট সহ বিভিন্ন পন্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত জলযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ আগস্ট ভাের রাতে উপজেলা সদরের জনগুরুত্বপূর্ণ রায়েন্দা খালের ওপর নির্মিত লােহার পিলার ও আরসিসি ঢালাইয়ের ব্রিজটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। ব্রীজের পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে নদী নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি খাদ্য গুদাম, একটি বরফ কল, কমপক্ষে ২০টি নির্মাণ সামগ্রীর দোকান এবং অর্ধ শতাধিক ইট, বালুর গােলা। ব্রিজটি দীর্ঘদিন ভেঙে পড়ে থাকায় খালের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি একেবারেই আটকে আছে। যার ফলে ব্যবসায়ীক এসব পণ্যসামগ্রী ঠিকমতাে আনা-নেওয়া করতে না পারায় চরম দুর্ভােগে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

খােঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৬-৯৭ অর্থ বছরে রায়েন্দা ও খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী রায়েন্দা খালের উপর আরসিসি ঢালাই, লোহার পিলার ও এ্যাঙ্গেল দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকেই পিলার দূর্বল হয়ে হয়ে পড়ে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেতুটি মেরামত না করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। 

২০২০ সালের মার্চ মাসে ব্রিজটি হঠাৎ একদিকে হেলে পড়ায় উপজেলা প্রশাসন চলাচলের অযোগ্য হিসাবে সেতুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে লোহার অ্যাঙ্গেল ও কাঠের স্লিপার দিয়ে সেতুটির পূর্ব পার্শ্বে নতুন একটি কাঠের পুল নির্মাণ করে। বর্তমানে কাঠের পুল দিয়ে মানুষ চলাচল করলেও  সেটিরও নড়বড়ে অবস্থা। এ পুলটিও যেকােনাে মুহূর্তে ভেঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত ভাঙ্গা ব্রীজটি অপসারণ করে নতুন ব্রিজ নির্মানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
 
মের্সাস মেঘা বরফ কলের মালিক মাে. গােলাম মােস্তফা তালুকদার জানান, বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও ব্রিজটি ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে থাকায় খালটি বন্ধ রয়েছে। ছােটখাটাে দু'একটি মাছ ধরার নৌকা ছাড়া বড় কােনা ফিশিং ট্রলার ঢুকতে পারছে না বিধায় বর্তমানে বরফ উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। এক মাসে কয়েক লাখ টাকা লােকসানে পড়তে হয়েছে তাকে।

নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী মাে. মােস্তফা তালুকদার, জামাল আকন ও হাবিব মুন্সী জানান, তারা মােকাম থেকে ইট, বালু, সিমেন্ট ও পাথর সহ বিভিন্ন মালামাল নৌ পথেই আনা-নেওয়া করেন। ভাঙ্গা ব্রিজের কারণে এসব পণ্যের কার্গাে জাহাজ ঢুকতে পারছে না। ভাঙ্গা ব্রিজটি দ্রুত অপসারণ করা না হলে তাদের ব্যবসাই বন্ধ হবার উপক্রম।

রায়েন্দা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাে. আলাউদ্দিন বিশ্বাস জানান, ব্রিজটি ভেঙ্গে খালটি বন্ধ হবার কারনে খাদ্য গুদামের ঘাটে চাল ও গম বাহী বড় কােনাে বার্জ আসতে পারছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, প্রথম দিকে এলজিইডির নিজস্ব খরচে স্থানীয়দের মাধ্যমে ব্রিজটি ভেঙ্গে অপসারনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতে অতিরিক্ত খরচ পড়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি দ্রুত অপসারনের চেষ্টা চলছে।

জানতে চাইলে শরণখােলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাতুনে জান্নাত বলেন, ব্রিজটি অপসারনের দায়িত্ব এলজিইডি দপ্তরের। মানুষের দুর্ভাগের কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে কয়েকবার সভা করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
 
একুশে সংবাদ/মাসুম/আরিফ